শিরোনামঃ
Logo লক্ষ্মীছড়িতে ইউপিডিএফের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ Logo জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সেলিম মাহমুদ সাগরের বিরুদ্ধে ভর্তুকির অর্থ লোপাটের অভিযোগ Logo অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিরুকে হয়রানির চেষ্টা ট্যুরিস্ট পুলিশ কর্মকর্তার, নিন্দা ক্র্যাকের Logo লংগদু স্টুডেন্ট ফোরাম-এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা Logo সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ ছাড়ার আহ্বান, নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ এ এইচ এম ফারুকের Logo প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে ধোঁয়াশা, ৫ মাস পিছিয়ে হতেযাচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা Logo রাঙামাটিতে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন Logo পৈতৃক জমি রক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবারের আকুতি Logo পার্বত্য টিভি
রাঙামাটিতে ওএমএস আটা বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সেলিম মাহমুদ সাগরের বিরুদ্ধে ভর্তুকির অর্থ লোপাটের অভিযোগ

রাঙামাটিতে ওএমএস (Open Market Sale) কর্মসূচির আওতায় আটা বিক্রিতে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন, মজুদে গরমিল এবং ডিলার-মিলারের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম মাহমুদ সাগরের দিকে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাঙামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ১২টি স্থানে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ভেদভেদী, রাঙামাটি স্টেডিয়াম, আলম ডকইয়ার্ড ও আসামবস্তী এলাকায় আটা বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানকালে একই ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ভুয়া নামে ভোক্তা নিবন্ধন, গুদাম স্টকে গরমিল এবং অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। কাগজপত্রে প্রতিদিন ১ টন, অর্থাৎ ২০ বস্তা আটা বিক্রির হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে প্রায় ১০ বস্তা বিক্রি করা হয়। সপ্তাহে পাঁচ দিন ২০০ জন ভোক্তার পরিবর্তে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ জনের কাছে আটা বিক্রি করা হয়।

প্রতিদিন অবশিষ্ট ১০ বস্তা আটা ডিলার পয়েন্টে থেকে যাওয়ার পরও রেজিস্টারে স্টক শূন্য দেখানো হয়। একটি সংস্থার তদন্তে ডিলারদের রেজিস্টার খাতা যাচাই করে ভুয়া নাম ও টিপসই সংযোজনের মাধ্যমে কৃত্রিম বিক্রির হিসাব প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি পয়েন্টের ট্যাগ অফিসাররা প্রকৃত স্টক যাচাই না করে কেবল কাগুজে হিসাবের ভিত্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার কথা থাকলেও অনেক ডিলার দুপুর ১২টার মধ্যেই দোকান বন্ধ করে দেন। ভোক্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

ভোক্তাদের দাবি অনুযায়ী প্রতিদিন প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে প্রকৃত বরাদ্দ ও সরবরাহকৃত আটার পরিমাণ প্রকাশ করতে হবে। মিল থেকে সরবরাহের চালানপত্র ও ডিলারের গুদাম স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্বকাল, উপস্থিতি ও স্বাক্ষর যাচাইয়ে জেলা প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন। গত ছয় মাসের পরিদর্শন প্রতিবেদন যাচাই করতে হবে। রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ ভোক্তাদের নাম ও স্বাক্ষর বা টিপসইয়ের সত্যতা যাচাই জরুরি। কম সরবরাহকৃত ওএমএস আটা সরকারি হিসাবে কীভাবে সমন্বয় করা হয়, তা তথ্য অধিকার আইনে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিটি ডিলার দোকানে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা সচল রাখার দাবিও উঠেছে।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে প্রতিদিন ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকির খাদ্যসামগ্রী আত্মসাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙামাটি জজ কোর্টের এক সিনিয়র আইনজীবীর মতে, সরকারি ভর্তুকির অর্থ আত্মসাত ফৌজদারি অপরাধের শামিল।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সেলিম মাহমুদ সাগরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অফিসে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রথমে অপেক্ষা করানো হয়। পরে তিনি চেম্বারে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সচেতন মহল বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ সমূহ:

লক্ষ্মীছড়িতে ইউপিডিএফের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ

রাঙামাটিতে ওএমএস আটা বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সেলিম মাহমুদ সাগরের বিরুদ্ধে ভর্তুকির অর্থ লোপাটের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২:৫১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

রাঙামাটিতে ওএমএস (Open Market Sale) কর্মসূচির আওতায় আটা বিক্রিতে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন, মজুদে গরমিল এবং ডিলার-মিলারের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম মাহমুদ সাগরের দিকে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাঙামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ১২টি স্থানে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ভেদভেদী, রাঙামাটি স্টেডিয়াম, আলম ডকইয়ার্ড ও আসামবস্তী এলাকায় আটা বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানকালে একই ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ভুয়া নামে ভোক্তা নিবন্ধন, গুদাম স্টকে গরমিল এবং অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। কাগজপত্রে প্রতিদিন ১ টন, অর্থাৎ ২০ বস্তা আটা বিক্রির হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে প্রায় ১০ বস্তা বিক্রি করা হয়। সপ্তাহে পাঁচ দিন ২০০ জন ভোক্তার পরিবর্তে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ জনের কাছে আটা বিক্রি করা হয়।

প্রতিদিন অবশিষ্ট ১০ বস্তা আটা ডিলার পয়েন্টে থেকে যাওয়ার পরও রেজিস্টারে স্টক শূন্য দেখানো হয়। একটি সংস্থার তদন্তে ডিলারদের রেজিস্টার খাতা যাচাই করে ভুয়া নাম ও টিপসই সংযোজনের মাধ্যমে কৃত্রিম বিক্রির হিসাব প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি পয়েন্টের ট্যাগ অফিসাররা প্রকৃত স্টক যাচাই না করে কেবল কাগুজে হিসাবের ভিত্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার কথা থাকলেও অনেক ডিলার দুপুর ১২টার মধ্যেই দোকান বন্ধ করে দেন। ভোক্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

ভোক্তাদের দাবি অনুযায়ী প্রতিদিন প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে প্রকৃত বরাদ্দ ও সরবরাহকৃত আটার পরিমাণ প্রকাশ করতে হবে। মিল থেকে সরবরাহের চালানপত্র ও ডিলারের গুদাম স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্বকাল, উপস্থিতি ও স্বাক্ষর যাচাইয়ে জেলা প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন। গত ছয় মাসের পরিদর্শন প্রতিবেদন যাচাই করতে হবে। রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ ভোক্তাদের নাম ও স্বাক্ষর বা টিপসইয়ের সত্যতা যাচাই জরুরি। কম সরবরাহকৃত ওএমএস আটা সরকারি হিসাবে কীভাবে সমন্বয় করা হয়, তা তথ্য অধিকার আইনে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিটি ডিলার দোকানে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা সচল রাখার দাবিও উঠেছে।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে প্রতিদিন ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকির খাদ্যসামগ্রী আত্মসাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙামাটি জজ কোর্টের এক সিনিয়র আইনজীবীর মতে, সরকারি ভর্তুকির অর্থ আত্মসাত ফৌজদারি অপরাধের শামিল।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সেলিম মাহমুদ সাগরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অফিসে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রথমে অপেক্ষা করানো হয়। পরে তিনি চেম্বারে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সচেতন মহল বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।