পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এলো। গত ১লা মে ২০২৬ থেকে খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের আওতাধীন সকল রুটে নতুন ভাড়ার তালিকা কার্যকর করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জ্বালানি তেলের দামের সাথে সমন্বয় এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিক সমিতি।
খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকা, ফেনীসহ অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে চলাচলের জন্য এখন থেকে যাত্রীদের গুনতে হবে নতুন নির্ধারিত ভাড়া। মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধার্থে ভাড়ার চার্ট প্রতিটি কাউন্টারে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের মতে, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধি এবং পরিবহনের আনুষঙ্গিক খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় পুরনো ভাড়ায় গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তারা দাবি করছেন, এই নতুন ভাড়া কেবল ব্যবসায়িক লাভ নয়, বরং যাত্রীসেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে বাস টার্মিনালগুলো ঘুরে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নিয়মিত যাতায়াতকারী চাকুরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিলেও, পর্যটকদের একটি অংশ মনে করছেন—যদি সেবার মান বাড়ে তবে বাড়তি ভাড়া মেনে নিতে তাদের আপত্তি নেই। তবে সাধারণ যাত্রীদের দাবি, ভাড়া বাড়লেও যেন গাড়ির সিট ও চালকদের আচরণে গুণগত পরিবর্তন আনা হয়।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম অভিমুখী বাসগুলোতে দূরত্বভেদে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে।দীঘিনালা, পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গা রুটে লোকাল বাসেও নতুন হার কার্যকর হয়েছে।
খাগড়াছড়ির পর্যটন অর্থনীতির ওপর এই ভাড়া বৃদ্ধির কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, তা দেখার বিষয়। তবে প্রশাসন ও মালিক সমিতি যদি ভাড়ার তালিকা কঠোরভাবে মনিটরিং করে, তবে বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









