খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলা ও রিচাং ঝর্ণা সংলগ্ন হৃদয় মেম্বার পাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী শান্তি পরিবহন ও মাহিন্দ্রর মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মাহিন্দ্র চালকসহ অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রিসাং ঝর্ণা টার্নিং পয়েন্টে দ্রুতগামী একটি শান্তি পরিবহনের বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাহিন্দ্রকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে মাহিন্দ্রটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা রক্তাক্ত অবস্থায় আটকা পড়েন। স্থানীয় জনতা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
আহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে:
১. মোঃ আঃ রহিম (৩২) [চালক]: পিতা- মোঃ মুল্লুক চান, কালো পাহাড়, মাইসছড়ি, মহালছড়ি।
২. চন্দ্র মনি ত্রিপুরা (৫৭): পিতা- রেবদি মোহন ত্রিপুরা, খাগড়াপুর, সদর। (অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে রিফার করা হয়েছে)।
৩. খরেন বিকাশ ত্রিপুরা (৩০): পিতা- পতি কুমার ত্রিপুরা, তপ্ত মাস্টার পাড়া, মাটিরাঙ্গা।
৪. অগ্য মারমা (৪০): পিতা- আগ্য মারমা, দেওয়ান পাড়া, গুইমারা।
৫. আওঅং মারমা (৩২): স্বামী- সানু মারমা, পানখাইয়া পাড়া, সদর।
৬. ললিতা বালা ত্রিপুরা (৪০): স্বামী- খগেন্দ্র ত্রিপুরা, পশ্চিম গোলাবাড়ি, সদর।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের এই বিপজ্জনক বাঁকগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে চালকদের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক নির্দেশনার অভাবকে এই মৃত্যুর মিছিলের জন্য দায়ী করছেন স্থানীয়রা। মহাসড়কে ঠিক কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















