মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে ঘি ঢাললো কুয়েতি তেলবাহী ট্যাংকার ‘আল-সালমি’-র ওপর হামলা। দুবাই বন্দরে অবস্থানরত এই বিশালাকার ট্যাংকারটি ইরানের হামলার শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলার পর ট্যাংকারটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়, যা দূর থেকে দৃশ্যমান ছিল।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) এই হামলাকে “সরাসরি ও অপরাধমূলক” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ট্যাংকারটি পুরোপুরি জ্বালানি তেল ভর্তি থাকায় আগুনের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, দুবাই মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, জাহাজে থাকা ২৪ জন নাবিককেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও জাহাজের কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সামুদ্রিক অগ্নিনির্বাপক দল তটস্থ রয়েছে, যাতে ফুটো হওয়া অংশ দিয়ে সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় না ঘটে।
এই হামলার পরপরই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কম্পন শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ৩.৪% বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব-রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার অতিক্রম করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ,রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত গ্যাসোলিনের দাম প্রায় ৩৬% বেড়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম এই উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ে তেলবাহী জাহাজে হামলার দ্বিতীয় ঘটনা। তবে এবারের ঘটনাটি বিশেষভাবে বিপজ্জনক, কারণ জাহাজটি পূর্ণ লোড অবস্থায় ছিল। সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়লে পারস্য উপসাগরের সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান ধ্বংস হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই হামলা কেবল একটি দেশের ওপর নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















