পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়িতে “বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬” এর শুভ উদ্বোধন ও একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর জোনের উদ্যোগে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে. এম. ওবায়দুল হক, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
মিস শেফালিকা ত্রিপুরা (চেয়ারম্যান, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আমিনুর রহমান, পিএসসি (খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার) কাজী মোস্তফা আরেফিন (জিটু-আই, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) এম. এন. আফছার (সাধারণ সম্পাদক, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি) মোঃ ফরিদ মিয়া (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) এছাড়াও খাগড়াছড়ি সেনানিবাসের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের অপরিহার্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, “বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬” এর এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সারাদেশে চলমান সবুজায়ন কার্যক্রমে একটি নতুন মাত্রা যোগ হলো।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মূল আলোচনা শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দের অংশগ্রহণে সরাসরি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়। একই সাথে স্থানীয় জনগণের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরিশেষে, একটি বর্ণাঢ্য ও সুসজ্জিত র্যালি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
উপস্থিত সুধীজন মনে করেন, সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী উদ্যোগ একটি সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব পার্বত্য অঞ্চল তথা বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
















