শিরোনামঃ
Logo জুরাছড়িতে সেনাবাহিনীর বড় অ্যাকশন: ৯০ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ Logo বাঘাইছড়িতে অবৈধ বালু উত্তোলন: দুই ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা Logo বরকলে নিজ ঘরে গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার: গরু বিক্রির ৩ লাখ টাকা লুট, সন্দেহের তীর দুই পরিচিতের দিকে Logo পাহাড় সাজবে সবুজে: মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর আড়াই লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মহতি উদ্যোগ Logo খাগড়াছড়ির দূর্গম পাহাড়ি পাড়ায় দীঘিনালা জোনের উপহার: স্বস্তির নিঃশ্বাস ১০৫ পরিবারে Logo মানিকছড়ির মহামুনি টিলায় সেনা ও ওষুধ কোম্পানির গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২ Logo কক্সবাজার থেকে মুসলিম তরুণীসহ ইসকন সদস্য রাঙামাটিতে: ওলামাদের থানা ঘেরাও ও তীব্র প্রতিবাদ Logo পাহাড়ের নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ: দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর সেলাই প্রশিক্ষণ Logo ২২ মামলার পলাতক সজলসহ ৯ জন গ্রেফতার, রাঙামাটিতে তোলপাড় Logo উন্নয়ন কাজে আনসার ব্যাটালিয়নের বাধা খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে গচ্ছাবিলবাসীর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
মাথায় হাতুড়ি ও ইটের আঘাতের চিহ্ন; ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে, তদন্তে পুলিশ

বরকলে নিজ ঘরে গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার: গরু বিক্রির ৩ লাখ টাকা লুট, সন্দেহের তীর দুই পরিচিতের দিকে

রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে আয়শা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরে থাকা গরু বিক্রির নগদ টাকা লুট করার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। রোববার (২১ জুন ২০২৬) রাতে উপজেলার ১ নম্বর সুবলং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ান্দের বরুনাছড়ি ইসলামপুর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আয়শা বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা মো. মফিজুল হকের স্ত্রী।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে প্রতিদিনের মতোই আয়শা বেগমের স্বামী মো. মফিজুল হক ও তাদের বড় ছেলে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। দিনভর কাজ শেষে সন্ধ্যায় তারা বাড়িতে ফিরে পুরো ঘর অন্ধকার দেখতে পান। এরপর ঘরে প্রবেশ করে বাতি জ্বালাতেই মেঝের ওপর আয়শা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে দেখা যায়, তার মাথায় ও কপালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। স্বজনরা জানান, মরদেহের পাশেই পড়ে ছিল রক্তমাখা একটি ইট এবং একটি হাতুড়ি। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দিয়েই আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহতের স্বামী মো. মফিজুল হক জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ঘরের আলমারি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সম্প্রতি তারা প্রায় ৩ লাখ টাকায় কিছু গরু বিক্রি করেছিলেন এবং সেই টাকা আলমারিতেই রাখা ছিল। ঘটনার পর থেকে ওই টাকার কোনো হদিস মিলছে না। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট সন্দেহের কথা জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, সোহাগ ও ওমর নামের দুই ব্যক্তি নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াত করত। ঘটনার পর থেকে তাদের আচরণ ও অনুপস্থিতি সন্দেহের জন্ম দিয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত থাকতে পারে বলে পরিবারের ধারণা।

সুবলং পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. বাদল দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে নিহতের মাথা ও কপালে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতিউতি তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (২২ জুন ২০২৬) সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এক অত্যন্ত শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুরাছড়িতে সেনাবাহিনীর বড় অ্যাকশন: ৯০ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ

মাথায় হাতুড়ি ও ইটের আঘাতের চিহ্ন; ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে, তদন্তে পুলিশ

বরকলে নিজ ঘরে গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার: গরু বিক্রির ৩ লাখ টাকা লুট, সন্দেহের তীর দুই পরিচিতের দিকে

প্রকাশিত: ০৯:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে আয়শা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরে থাকা গরু বিক্রির নগদ টাকা লুট করার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। রোববার (২১ জুন ২০২৬) রাতে উপজেলার ১ নম্বর সুবলং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ান্দের বরুনাছড়ি ইসলামপুর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আয়শা বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা মো. মফিজুল হকের স্ত্রী।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে প্রতিদিনের মতোই আয়শা বেগমের স্বামী মো. মফিজুল হক ও তাদের বড় ছেলে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। দিনভর কাজ শেষে সন্ধ্যায় তারা বাড়িতে ফিরে পুরো ঘর অন্ধকার দেখতে পান। এরপর ঘরে প্রবেশ করে বাতি জ্বালাতেই মেঝের ওপর আয়শা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে দেখা যায়, তার মাথায় ও কপালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। স্বজনরা জানান, মরদেহের পাশেই পড়ে ছিল রক্তমাখা একটি ইট এবং একটি হাতুড়ি। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দিয়েই আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহতের স্বামী মো. মফিজুল হক জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ঘরের আলমারি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সম্প্রতি তারা প্রায় ৩ লাখ টাকায় কিছু গরু বিক্রি করেছিলেন এবং সেই টাকা আলমারিতেই রাখা ছিল। ঘটনার পর থেকে ওই টাকার কোনো হদিস মিলছে না। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট সন্দেহের কথা জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, সোহাগ ও ওমর নামের দুই ব্যক্তি নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াত করত। ঘটনার পর থেকে তাদের আচরণ ও অনুপস্থিতি সন্দেহের জন্ম দিয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত থাকতে পারে বলে পরিবারের ধারণা।

সুবলং পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. বাদল দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে নিহতের মাথা ও কপালে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতিউতি তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (২২ জুন ২০২৬) সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এক অত্যন্ত শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।