কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে এক মুসলিম তরুণীকে নিয়ে রাঙামাটিতে এসে আত্মগোপন করার অভিযোগ উঠেছে সনাতন ধর্মাবলম্বী সংগঠন ইসকনের এক সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত যুবকের শাস্তির দাবিতে স্থানীয় ওলামা মাশায়েখ ও তাওহীদী জনতা কোতোয়ালি থানার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
স্থানীয় ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকার বাসিন্দা ও ইসকন সদস্য সাগর কান্তি দে এক মুসলিম তরুণীকে নিয়ে রাঙামাটি শহরের বনরূপা জেবি সমিল এলাকায় আসেন। সেখানে মুনসুর আলী সওদাগরের ভবনের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা অবস্থান করছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অবস্থানের পর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং মুসলিম তরুণীকে ফুসলিয়ে নিয়ে আসার অভিযোগে স্থানীয় মুসলিম সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রাঙামাটির ওলামা মাশায়েখ ও তাওহীদী জনতা একত্রিত হয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিক্ষুব্ধ জনতা ও ওলামারা রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি—এ ঘটনার পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং অভিযুক্ত সাগর কান্তি দে-র বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বনরূপা ও জেবি সমিল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন থেকে স্থানীয় জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে রাঙামাটির বনরূপা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার মূল অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়েছে কিনা এবং তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়েছে কিনা—তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।















