১৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাটে শুরু হচ্ছে এক মহাযজ্ঞ; দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলার মেলবন্ধনে নতুন দিগন্ত লুসাই কন্যা কর্ণফুলী নদীর স্রোতধারার ওপর দিয়ে এবার দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট এলাকায় নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যাবল স্টেইট’ সেতু।
১৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটি কেবল একটি কংক্রিটের কাঠামো নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য জেলা রাঙামাটির মধ্যকার বন্ধুত্বের নতুন এক সেতুপথ।সাধারণত আমাদের দেশে গার্ডার বা আর্চ ব্রিজ বেশি দেখা গেলেও, এটি হবে বিদেশের বড় বড় শহরের মতো তারের ওপর ঝুলে থাকা এক নান্দনিক স্থাপত্য। নদীর মাঝখানে কোনো পিলারের বাধা ছাড়াই বিশাল এই স্প্যানটি কর্ণফুলীর প্রবাহকে রাখবে অবারিত।
বর্তমানে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন পারাপারের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়। এই সেতুটি নির্মিত হলে- বান্দরবানের রাজস্থলী ও রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের সাথে চট্টগ্রামের যোগাযোগ হবে নিরবচ্ছিন্ন।রাইখালী ও এর আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপাদিত মৌসুমি ফল ও সবজি দ্রুততম সময়ে পৌঁছে যাবে চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকার বাজারে।চন্দ্রঘোনা কেপিএম এলাকা এবং কাপ্তাইয়ের পর্যটন স্পটগুলোর গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৬৫০ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পের নকশা ও প্রাথমিক কারিগরি দিকগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে। রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়নের রূপকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিশেষ তদারকিতে এই সেতুটি হবে উত্তর চট্টগ্রামের লাইফলাইন। এটি চালু হলে কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা রোডের চিরচেনা যানজট হবে ইতিহাস।
কর্ণফুলীর রূপালী জলরাশির ওপর যখন এই ক্যাবল স্টেইট সেতুর সোনালী আভা পড়বে, তখন তা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হবে না, হবে এ অঞ্চলের আধুনিকায়নের সবচেয়ে বড় স্মারক।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















