দেশজুড়ে ঘনীভূত হওয়া জ্বালানি সংকট কাটাতে এবার সরাসরি ‘অ্যাকশন’-এ সরকার। বিলাসিতা আর অপচয় কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটা শুরু করেছে প্রশাসন। এখন থেকে বিয়ে কিংবা যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান—জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা থাকছে নিষিদ্ধের তালিকায়। সেই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে আপনার প্রাত্যহিক জীবনের চিরচেনা রুটিনও; সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মঘণ্টা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন সময়সূচি।
চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে হয়েছে সরকারকে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী: যেকোনো উৎসব বা সামাজিক অনুষ্ঠানে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা এখন থেকে অতীত। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে এই ধরনের অপচয়মূলক ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তে অফিস চলবে নির্দিষ্ট ও সংক্ষিপ্ত সময়ে। এর মূল লক্ষ্য হলো দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সান্ধ্যকালীন বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো। সরকারের এই নির্দেশনা ঠিকঠাক পালন করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে মাঠে থাকবে বিশেষ তদারকি দল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াত বা উৎসবে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করলেও, দীর্ঘমেয়াদী লোডশেডিং বা বড় কোনো বিপর্যয় এড়াতে এর বিকল্প নেই। জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় এই ‘মিতব্যয়িতা নীতি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আলোর ঝিলিক কমিয়ে অন্ধকার তাড়ানোর এই লড়াইয়ে এখন সাধারণ মানুষের সহযোগিতাই বড় শক্তি। বিলাসিতা বিসর্জন দিয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার এই বার্তাই এখন সময়ের দাবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















