শিরোনামঃ
Logo টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান: গুলিবিনিময়ে সেনাসদস্য শহীদ, জিম্মি থেকে মুক্ত ৫৭ Logo মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: চিকিৎসা ও ওষুধ পেলেন দুর্গম এলাকার শতাধিক অ-বাঙালি পাহাড়ি Logo মহালছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর যাত্রা শুরু Logo কাপ্তাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’: ৫০৩ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধন Logo হারানো ৫০টির বেশি ফোন উদ্ধার করে মালিকদের হাসিমুখ ফিরিয়ে দিল রাঙ্গামাটি পুলিশ Logo কাপ্তাই চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন: প্রথম দিনেই ফরম নিলেন ১ প্রার্থী, চাঞ্চল্য ভোটারদের মাঝে Logo রামগড়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির রশিদসহ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক Logo কাপ্তাইয়ে চেকপোস্টে পুলিশের জালে ইয়াবাসহ আটক ১ Logo পানছড়িতে বৈধ ইজারাদারদের তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির শঙ্কা Logo কাপ্তাইয়ে ৫ পিস ইয়াবাসহ চাকমা যুবক আটক, মোটরসাইকেল জব্দ
প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ১২০ জনের প্রাণহানি

১২০ প্রাণহানির সেই ট্র্যাজেডি: নয় বছর পরও রাঙামাটিবাসীর মনে ভয়

ভোররাতে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙামাটি শহরে পাহাড় ধসেপড়ে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। আজ থেকে ঠিক নয় বছর আগে, ২০১৭ সালের ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। নয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি ও আতঙ্ক আজও রাঙামাটিবাসীর মনে তাজা হয়ে আছে।

২০১৭ সালের ১৩ জুন ভোররাতে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি, ভেদভেদী, রাঙাপানি এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি। নিঃস্ব হয়ে যায় অনেক পরিবার। ভয়াবহ এ দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ হারান পাঁচ সেনাসদস্য। ঘটনার পর কয়েকদিন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

দীর্ঘ নয় বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবারের শোক এখনও কাটেনি। প্রতি বছর ১৩ জুন ফিরে এলে নতুন করে স্মরণ হয় সেই কালরাতের কথা। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে এখনও অনেক পরিবার দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে পাহাড় ধসের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার জন্য বিভিন্ন সময় সতর্কতা জারি করা হলেও বাস্তব চিত্রে তেমন পরিবর্তন আসেনি। পুনর্বাসনের অভাব ও আর্থিক সংকটের কারণে এখনও অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালেই বসবাস করছেন। বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের মধ্যে তৈরি হয় নতুন আতঙ্ক।

চলতি বর্ষা মৌসুমেও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থায়ী পুনর্বাসন না হওয়ায় অনেকেই নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে যেতে পারছেন না।

পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা ও বন উজাড় বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটির সচেতন মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান: গুলিবিনিময়ে সেনাসদস্য শহীদ, জিম্মি থেকে মুক্ত ৫৭

প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ১২০ জনের প্রাণহানি

১২০ প্রাণহানির সেই ট্র্যাজেডি: নয় বছর পরও রাঙামাটিবাসীর মনে ভয়

প্রকাশিত: ০১:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ভোররাতে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙামাটি শহরে পাহাড় ধসেপড়ে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। আজ থেকে ঠিক নয় বছর আগে, ২০১৭ সালের ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। নয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি ও আতঙ্ক আজও রাঙামাটিবাসীর মনে তাজা হয়ে আছে।

২০১৭ সালের ১৩ জুন ভোররাতে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি, ভেদভেদী, রাঙাপানি এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি। নিঃস্ব হয়ে যায় অনেক পরিবার। ভয়াবহ এ দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ হারান পাঁচ সেনাসদস্য। ঘটনার পর কয়েকদিন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

দীর্ঘ নয় বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবারের শোক এখনও কাটেনি। প্রতি বছর ১৩ জুন ফিরে এলে নতুন করে স্মরণ হয় সেই কালরাতের কথা। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে এখনও অনেক পরিবার দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে পাহাড় ধসের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার জন্য বিভিন্ন সময় সতর্কতা জারি করা হলেও বাস্তব চিত্রে তেমন পরিবর্তন আসেনি। পুনর্বাসনের অভাব ও আর্থিক সংকটের কারণে এখনও অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালেই বসবাস করছেন। বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের মধ্যে তৈরি হয় নতুন আতঙ্ক।

চলতি বর্ষা মৌসুমেও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থায়ী পুনর্বাসন না হওয়ায় অনেকেই নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে যেতে পারছেন না।

পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা ও বন উজাড় বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটির সচেতন মহল।