শিরোনামঃ
Logo জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মহালছড়িতে বৃক্ষরোপণ উৎসব Logo রাঙামাটিতে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo ১২০ প্রাণহানির সেই ট্র্যাজেডি: নয় বছর পরও রাঙামাটিবাসীর মনে ভয় Logo মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত Logo বিজ্ঞানের জয়গান মানিকছড়িতে: শিক্ষার্থীদের চমকপ্রদ উদ্ভাবনী মেলা Logo কেন্দ্রীয় সাইবার দলের সহ-প্রচার সম্পাদক হলেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদ Logo ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড রামগড়: ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মুখে হাসল ‘ত্রাণের চাল’ Logo ২ মাস ধরে ইউএনওহীন মহালছড়ি: অভিভাবকহীন উপজেলায় স্থবিরতা, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ Logo দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পদে ফেরানোর দাবিতে উত্তাল খাগড়াছড়ি: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি Logo আর্থিক অসুবিধায় থাকা কৃষকের পাশে ছাত্রদল, ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন নেতাকর্মীরা
ইউপিডিএফ সদস্য সুইচিং মারমা ও অন্তর বড়ুয়ার উপস্থিতিতে অস্থিরতা; ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়ছে মানসিক ও আর্থিক চাপের বোঝা

লক্ষ্মীছড়ির কুতুকছড়িতে সশস্ত্র আতঙ্ক ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি: দিশেহারা সাধারণ মানুষ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

খাগড়াছড়ি শান্ত ও সবুজ পাহাড়ের কোলে অবস্থিত খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ৩ নং বর্মাছড়ি ইউনিয়নের কুতুকছড়ি পাড়া। কৃষি আর ক্ষুদ্র ব্যবসায় জীবিকা নির্বাহ করা এই জনপদটি দীর্ঘকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের উদাহরণ হয়ে থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। এক সময়ের শান্ত এই জনপদে এখন বিরাজ করছে এক অজানা আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে কুতুকছড়ি এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা ও অবৈধ চাঁদাবাজির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কথিত ইউপিডিএফ সদস্য ও সশস্ত্র প্রশিক্ষিত সুইচিং মারমা এবং তার সহযোগী অন্তর বড়ুয়ার উপস্থিতিতে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে একটি চক্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বাৎসরিক মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদাবাজির এই রোষানল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ছোট দোকানদার কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে যে হারে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, তাতে ব্যবসা চালানোই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুখ খুললে শারীরিক হেনস্থা বা প্রাণনাশের ভয়ে অনেকেই নীরবে সহ্য করছেন এই জুলুম। যার ফলে এলাকার স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হওয়ার পথে।

এই অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। স্থানীয়রা মনে করছেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘদিনের এই শান্তির জনপদ ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।
প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা: কুতুকছড়ির সচেতন নাগরিকদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংঘাতের ইতিহাস মুছে যারা শান্তির পথে হাঁটতে চায়, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জরুরি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কুতুকছড়িতে প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি ও চিরুনি অভিযান এখন সময়ের দাবি। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাহাড়ের এই জনপদে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মহালছড়িতে বৃক্ষরোপণ উৎসব

ইউপিডিএফ সদস্য সুইচিং মারমা ও অন্তর বড়ুয়ার উপস্থিতিতে অস্থিরতা; ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়ছে মানসিক ও আর্থিক চাপের বোঝা

লক্ষ্মীছড়ির কুতুকছড়িতে সশস্ত্র আতঙ্ক ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি: দিশেহারা সাধারণ মানুষ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

প্রকাশিত: ০৫:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

খাগড়াছড়ি শান্ত ও সবুজ পাহাড়ের কোলে অবস্থিত খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ৩ নং বর্মাছড়ি ইউনিয়নের কুতুকছড়ি পাড়া। কৃষি আর ক্ষুদ্র ব্যবসায় জীবিকা নির্বাহ করা এই জনপদটি দীর্ঘকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের উদাহরণ হয়ে থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। এক সময়ের শান্ত এই জনপদে এখন বিরাজ করছে এক অজানা আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে কুতুকছড়ি এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা ও অবৈধ চাঁদাবাজির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কথিত ইউপিডিএফ সদস্য ও সশস্ত্র প্রশিক্ষিত সুইচিং মারমা এবং তার সহযোগী অন্তর বড়ুয়ার উপস্থিতিতে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে একটি চক্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বাৎসরিক মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদাবাজির এই রোষানল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ছোট দোকানদার কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে যে হারে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, তাতে ব্যবসা চালানোই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুখ খুললে শারীরিক হেনস্থা বা প্রাণনাশের ভয়ে অনেকেই নীরবে সহ্য করছেন এই জুলুম। যার ফলে এলাকার স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হওয়ার পথে।

এই অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। স্থানীয়রা মনে করছেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘদিনের এই শান্তির জনপদ ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।
প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা: কুতুকছড়ির সচেতন নাগরিকদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংঘাতের ইতিহাস মুছে যারা শান্তির পথে হাঁটতে চায়, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জরুরি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কুতুকছড়িতে প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি ও চিরুনি অভিযান এখন সময়ের দাবি। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাহাড়ের এই জনপদে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।