খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে মো. সাব্বির (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সিন্দুকছড়ি জোনের মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের একটি চৌকস দল উপজেলার জিয়ানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল বিকেলে জিয়ানগর এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে খেলছিল ৩ বছর বয়সী এক শিশু। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশী ইদ্রিস মিয়ার ছেলে সাব্বির শিশুটিকে কেক দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে ভিডিও গেম দেখানোর ছলে শিশুটির শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত সাব্বির এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার মানিকছড়ি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।
সেনাবাহিনীর নিরলস অভিযান পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। টানা ২৪ ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে জিয়ানগর এলাকা থেকে সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী।
অভিযুক্ত মো. সাব্বির (১৮)কে জিয়ানগর থেকে আটকে করে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প (সিন্দুকছড়ি জোন) এর মধ্যমে মানিকছড়ি থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
জনমনে স্বস্তি ও প্রশংসা ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় জিয়ানগরসহ পুরো মানিকছড়িতে স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এই দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করছেন, এ ধরনের কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন গ্রেপ্তারকৃত সাব্বিরকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, অপরাধী যেই হোক, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।
পার্বত্য টিভি 


















