শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত Logo বিজ্ঞানের জয়গান মানিকছড়িতে: শিক্ষার্থীদের চমকপ্রদ উদ্ভাবনী মেলা Logo কেন্দ্রীয় সাইবার দলের সহ-প্রচার সম্পাদক হলেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদ Logo ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড রামগড়: ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মুখে হাসল ‘ত্রাণের চাল’ Logo ২ মাস ধরে ইউএনওহীন মহালছড়ি: অভিভাবকহীন উপজেলায় স্থবিরতা, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ Logo দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পদে ফেরানোর দাবিতে উত্তাল খাগড়াছড়ি: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি Logo আর্থিক অসুবিধায় থাকা কৃষকের পাশে ছাত্রদল, ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন নেতাকর্মীরা Logo রাস্তার ওপরই রাখা হচ্ছে শত শত কেরেট; ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরপাল্লার চালকেরা। Logo ৩ মাসের মাথায় পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, মন্ত্রণালয়ে হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে উত্তাল পরিস্থিতি Logo আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে গোপন আঁতাত ও চাঁদাবাজি, উত্তপ্ত রাঙ্গামাটি বিএনপি
পুরানো গ্লানি মুছে শান্তির কামনায় কাপ্তাই হ্রদসহ পাহাড়ের ছড়া-খালে হাজারো মানুষের ঢল

নদীর জলে পাহাড়ের রঙ ফুল বিঝুর আবহে নতুন বছরকে বরণ করছে চাকমা জনগোষ্ঠী

পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা আর নদীর কলতানে আজ মিশেছে উৎসবের সুর। আজ বুধবার ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই পার্বত্য জনপদে শুরু হয়েছে চাকমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘বিঝু’। উৎসবের প্রথম দিন অর্থাৎ ‘ফুল বিঝু’ উপলক্ষে নদীর জলে ফুল ভাসিয়ে পুরানো বছরের সকল দুঃখ-কষ্ট আর গ্লানি ধুয়ে মুছে ফেলার প্রার্থনায় মেতেছে হাজারো মানুষ।

পাহাড় জুড়ে ফুলের মৈত্রী ভোর হতেই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি পরে দলে দলে পাহাড়িরা ভিড় জমায় নদীর ঘাটে। বন থেকে সংগৃহীত কাঁচাফুল দিয়ে সাজানো হয় ঘরবাড়ি। এরপর সেই পবিত্র ফুল নিয়ে যাওয়া হয় নদীর পাড়ে। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি আজ যেন বুনো আর গৃহস্থালি ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার মুখেই ছিল নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার অনাবিল হাসি।

শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা উৎসবের আমেজে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, ফুল বিঝু মানেই পবিত্রতা। নদীর জলে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে তারা কেবল দেবতাকে পূজা দেন না, বরং প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে এক অটুট বন্ধন কামনা করেন। ফুল বিঝুর এই স্নিগ্ধতা পরের দিনগুলোতে আরও রঙিন হয়ে উঠবে ‘মূল বিঝু’ এবং ‘গজ্যাপজ্যা বিঝু’র মাধ্যমে।

উৎসব উপলক্ষে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় বইছে আনন্দের জোয়ার। ঘরোয়া আপ্যায়ন, পাচন (ঐতিহ্যবাহী সবজি রান্না) তৈরির প্রস্তুতি আর একে অপরের বাড়িতে যাওয়ার নিমন্ত্রণ—সব মিলিয়ে পাহাড় এখন এক সম্প্রীতির মিলনমেলা। পর্যটন শহরগুলোতেও বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়, যারা পাহাড়ের এই বর্ণিল সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন।শহর ও গ্রাম ছাপিয়ে এই উৎসব এখন কেবল পাহাড়ের নয়, বরং সারা বাংলার বৈচিত্র্যের এক অনন্য প্রতীক।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত

পুরানো গ্লানি মুছে শান্তির কামনায় কাপ্তাই হ্রদসহ পাহাড়ের ছড়া-খালে হাজারো মানুষের ঢল

নদীর জলে পাহাড়ের রঙ ফুল বিঝুর আবহে নতুন বছরকে বরণ করছে চাকমা জনগোষ্ঠী

প্রকাশিত: ০৬:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা আর নদীর কলতানে আজ মিশেছে উৎসবের সুর। আজ বুধবার ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই পার্বত্য জনপদে শুরু হয়েছে চাকমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘বিঝু’। উৎসবের প্রথম দিন অর্থাৎ ‘ফুল বিঝু’ উপলক্ষে নদীর জলে ফুল ভাসিয়ে পুরানো বছরের সকল দুঃখ-কষ্ট আর গ্লানি ধুয়ে মুছে ফেলার প্রার্থনায় মেতেছে হাজারো মানুষ।

পাহাড় জুড়ে ফুলের মৈত্রী ভোর হতেই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি পরে দলে দলে পাহাড়িরা ভিড় জমায় নদীর ঘাটে। বন থেকে সংগৃহীত কাঁচাফুল দিয়ে সাজানো হয় ঘরবাড়ি। এরপর সেই পবিত্র ফুল নিয়ে যাওয়া হয় নদীর পাড়ে। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি আজ যেন বুনো আর গৃহস্থালি ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার মুখেই ছিল নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার অনাবিল হাসি।

শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা উৎসবের আমেজে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, ফুল বিঝু মানেই পবিত্রতা। নদীর জলে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে তারা কেবল দেবতাকে পূজা দেন না, বরং প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে এক অটুট বন্ধন কামনা করেন। ফুল বিঝুর এই স্নিগ্ধতা পরের দিনগুলোতে আরও রঙিন হয়ে উঠবে ‘মূল বিঝু’ এবং ‘গজ্যাপজ্যা বিঝু’র মাধ্যমে।

উৎসব উপলক্ষে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় বইছে আনন্দের জোয়ার। ঘরোয়া আপ্যায়ন, পাচন (ঐতিহ্যবাহী সবজি রান্না) তৈরির প্রস্তুতি আর একে অপরের বাড়িতে যাওয়ার নিমন্ত্রণ—সব মিলিয়ে পাহাড় এখন এক সম্প্রীতির মিলনমেলা। পর্যটন শহরগুলোতেও বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়, যারা পাহাড়ের এই বর্ণিল সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন।শহর ও গ্রাম ছাপিয়ে এই উৎসব এখন কেবল পাহাড়ের নয়, বরং সারা বাংলার বৈচিত্র্যের এক অনন্য প্রতীক।