শিরোনামঃ
Logo পাহাড়ে উৎসবের আমেজে রক্তপাত গুইমারায় যুবককে পিটিয়ে জখম Logo সব জাতিসত্তার ঐক্যে গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান Logo পাহাড়ের চূড়ায় সম্প্রীতির মহোৎসব নুনছড়ি ‘মাতাই পুখিরী’ তীর্থ মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন Logo গুইমারায় আর্তমানবতার সেবায় সিন্দোকছড়ি জোন ১৬ এপ্রিল বিনামূল্যে চক্ষু ও মেডিকেল ক্যাম্পেইন Logo পার্বত্য মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রয়োগে তীব্র নিন্দা- সামাজিক ভারসাম্য নষ্টের আশঙ্কা সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের Logo তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত Logo সাজেকে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান বিপুল পরিমাণ চোরাই সেগুন কাঠ জব্দ Logo পাহাড়ে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের নববর্ষের শুভেচ্ছা Logo রাঙামাটিতে ১১ দলীয় জোটের বিশাল বিক্ষোভ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ডাক Logo হ্রদে ভাসল ফুল পাহাড়ে শুরু হলো রঙের উৎসব ‘বৈসাবি’
পুরানো গ্লানি মুছে শান্তির কামনায় কাপ্তাই হ্রদসহ পাহাড়ের ছড়া-খালে হাজারো মানুষের ঢল

নদীর জলে পাহাড়ের রঙ ফুল বিঝুর আবহে নতুন বছরকে বরণ করছে চাকমা জনগোষ্ঠী

পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা আর নদীর কলতানে আজ মিশেছে উৎসবের সুর। আজ বুধবার ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই পার্বত্য জনপদে শুরু হয়েছে চাকমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘বিঝু’। উৎসবের প্রথম দিন অর্থাৎ ‘ফুল বিঝু’ উপলক্ষে নদীর জলে ফুল ভাসিয়ে পুরানো বছরের সকল দুঃখ-কষ্ট আর গ্লানি ধুয়ে মুছে ফেলার প্রার্থনায় মেতেছে হাজারো মানুষ।

পাহাড় জুড়ে ফুলের মৈত্রী ভোর হতেই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি পরে দলে দলে পাহাড়িরা ভিড় জমায় নদীর ঘাটে। বন থেকে সংগৃহীত কাঁচাফুল দিয়ে সাজানো হয় ঘরবাড়ি। এরপর সেই পবিত্র ফুল নিয়ে যাওয়া হয় নদীর পাড়ে। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি আজ যেন বুনো আর গৃহস্থালি ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার মুখেই ছিল নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার অনাবিল হাসি।

শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা উৎসবের আমেজে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, ফুল বিঝু মানেই পবিত্রতা। নদীর জলে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে তারা কেবল দেবতাকে পূজা দেন না, বরং প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে এক অটুট বন্ধন কামনা করেন। ফুল বিঝুর এই স্নিগ্ধতা পরের দিনগুলোতে আরও রঙিন হয়ে উঠবে ‘মূল বিঝু’ এবং ‘গজ্যাপজ্যা বিঝু’র মাধ্যমে।

উৎসব উপলক্ষে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় বইছে আনন্দের জোয়ার। ঘরোয়া আপ্যায়ন, পাচন (ঐতিহ্যবাহী সবজি রান্না) তৈরির প্রস্তুতি আর একে অপরের বাড়িতে যাওয়ার নিমন্ত্রণ—সব মিলিয়ে পাহাড় এখন এক সম্প্রীতির মিলনমেলা। পর্যটন শহরগুলোতেও বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়, যারা পাহাড়ের এই বর্ণিল সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন।শহর ও গ্রাম ছাপিয়ে এই উৎসব এখন কেবল পাহাড়ের নয়, বরং সারা বাংলার বৈচিত্র্যের এক অনন্য প্রতীক।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পাহাড়ে উৎসবের আমেজে রক্তপাত গুইমারায় যুবককে পিটিয়ে জখম

পুরানো গ্লানি মুছে শান্তির কামনায় কাপ্তাই হ্রদসহ পাহাড়ের ছড়া-খালে হাজারো মানুষের ঢল

নদীর জলে পাহাড়ের রঙ ফুল বিঝুর আবহে নতুন বছরকে বরণ করছে চাকমা জনগোষ্ঠী

প্রকাশিত: ০৬:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা আর নদীর কলতানে আজ মিশেছে উৎসবের সুর। আজ বুধবার ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই পার্বত্য জনপদে শুরু হয়েছে চাকমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘বিঝু’। উৎসবের প্রথম দিন অর্থাৎ ‘ফুল বিঝু’ উপলক্ষে নদীর জলে ফুল ভাসিয়ে পুরানো বছরের সকল দুঃখ-কষ্ট আর গ্লানি ধুয়ে মুছে ফেলার প্রার্থনায় মেতেছে হাজারো মানুষ।

পাহাড় জুড়ে ফুলের মৈত্রী ভোর হতেই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি পরে দলে দলে পাহাড়িরা ভিড় জমায় নদীর ঘাটে। বন থেকে সংগৃহীত কাঁচাফুল দিয়ে সাজানো হয় ঘরবাড়ি। এরপর সেই পবিত্র ফুল নিয়ে যাওয়া হয় নদীর পাড়ে। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি আজ যেন বুনো আর গৃহস্থালি ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার মুখেই ছিল নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার অনাবিল হাসি।

শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা উৎসবের আমেজে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, ফুল বিঝু মানেই পবিত্রতা। নদীর জলে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে তারা কেবল দেবতাকে পূজা দেন না, বরং প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে এক অটুট বন্ধন কামনা করেন। ফুল বিঝুর এই স্নিগ্ধতা পরের দিনগুলোতে আরও রঙিন হয়ে উঠবে ‘মূল বিঝু’ এবং ‘গজ্যাপজ্যা বিঝু’র মাধ্যমে।

উৎসব উপলক্ষে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় বইছে আনন্দের জোয়ার। ঘরোয়া আপ্যায়ন, পাচন (ঐতিহ্যবাহী সবজি রান্না) তৈরির প্রস্তুতি আর একে অপরের বাড়িতে যাওয়ার নিমন্ত্রণ—সব মিলিয়ে পাহাড় এখন এক সম্প্রীতির মিলনমেলা। পর্যটন শহরগুলোতেও বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়, যারা পাহাড়ের এই বর্ণিল সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন।শহর ও গ্রাম ছাপিয়ে এই উৎসব এখন কেবল পাহাড়ের নয়, বরং সারা বাংলার বৈচিত্র্যের এক অনন্য প্রতীক।