ভোরের সূর্যের প্রথম কিরণ যখন কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলে আছড়ে পড়ল, তখনই হাজারো রঙিন ফুলের স্পর্শে জেগে উঠল পাহাড়। পুরনো বছরের দুঃখ আর গ্লানিকে গঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়ে নতুন আবাহনে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু বা ‘বৈসাবি’।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোরে রাঙামাটির রাজবাড়ী ঘাটে ‘বৈসাবি উদযাপন কমিটি’র আয়োজনে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শত শত তরুণ-তরুণী ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে হ্রদের জলে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবে ফুল ভাসিয়ে ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ সদস্য সাগরিকা রোয়াজা।
পাহাড়ের প্রতিটি জাতিসত্তার কাছে এই উৎসবের নাম ভিন্ন হলেও আনন্দের সুর অভিন্ন। চাকমাদের ‘বিজু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’ আর তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’—সব মিলিয়ে পাহাড় এখন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া মুরংদের চাংক্রান, খুমীদের চাংলান, সাওতালদের পাতা এবং গুর্খাদের বিহু উৎসবে মুখর চারপাশ।
বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার জানান, “আজ ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু। আগামীকাল ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূল বিজু, যার প্রধান আকর্ষণ হলো ঘরোয়াভাবে রান্না করা ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’। ১৪ এপ্রিল ‘গোজ্যেপোজ্যে’ বিজুর মাধ্যমে উৎসব চললেও আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটি চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে মারমাদের বর্ণিল ‘জলকেলি’ বা জলোৎসবের মধ্য দিয়ে এ বছরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
উৎসবের এই ক্ষণে পাহাড়ের মানুষের একমাত্র প্রার্থনা—সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন যেন আরও সুদৃঢ় হয়। পুরনো বছরের সকল জরা মুছে বিশ্ব যেন এক সুন্দর ও শান্তিময় আগামীর পথে এগিয়ে যায়, এই প্রত্যাশাই এখন প্রতিটি পাহাড়বাসীর কণ্ঠে।
স্টাপ রিপোটার 


















