পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিপেন দেওয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’। সংগঠনটি মনে করে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে সংবিধানের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক এ ধরনের শব্দ প্রয়োগ পাহাড়ের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও বহুজাতিক বাস্তবতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।গণমাধ্যমে পাঠানো সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো শব্দ প্রয়োগ অনভিপ্রেত। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি জাতিসত্তা—চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, চাকসহ ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব নাম ও পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত। কোনো আরোপিত পরিভাষা বা একক শব্দের মাধ্যমে এই বহুমাত্রিক পরিচয়কে একীভূত করার চেষ্টা বিভ্রান্তিকর।
বর্তমানে পাহাড়ে সাংগ্রাই, বৈসু ও বিজুর (বিঝু) মতো আনন্দমুখর উৎসব পালিত হচ্ছে। এমন একটি ঐক্যের সময়ে মন্ত্রীর এই বক্তব্য সামাজিক বিভাজন ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের মতো স্পর্শকাতর স্থানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য হওয়া উচিত সুপরিকল্পিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি দিপেন দেওয়ার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছে যে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক মহলকে পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর অনুভূতি ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্য ও সহাবস্থানের মাধ্যমে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করার জন্য পার্বত্য অঞ্চলের সকল জাতিসত্তার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিশেষে বলা হয়, একটি ভুল শব্দচয়নও সামাজিক অবিশ্বাস এবং অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে পারস্পরিক সম্মান এবং সংবিধানসম্মত শব্দচয়ন অপরিহার্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















