খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় উৎসবের আনন্দের মাঝেই বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। বৈসাবির আমেজে যখন পাহাড় মুখরিত, ঠিক তখনই অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় সুইপ্রু মারমা (৩৮) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেকহাতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোররাত আনুমানিক ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে গুইমারা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চৌধুরীঘাট এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সুইপ্রু মারমা ওই এলাকার দেওয়ানপাড়ার বাসিন্দা নিসাইপ্রু মারমার ছেলে। সন্ত্রাসীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন চৌধুরীঘাট এলাকার ক্যায়াংঘরে প্রার্থনায় যাওয়ার সময় সুইপ্রুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোহরাওয়ার্দী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে মাটিরাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাইক্যাপাড়া সেনা ক্যাম্প থেকে সার্জেন্ট সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহল দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গুইমারা থানার ওসি মোঃ সোহরাওয়ার্দী (সরওয়ার) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান-আমরা বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, তবে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, আহত সুইপ্রু মারমা রোববার রাত ৯টায় বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। উৎসবের এই সময়ে এমন নৃশংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















