শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন লক্ষ্যমাত্রা ৬৬৫০ শিশু Logo খাগড়াবিল বাজারে ডিজেল নিয়ে কারসাজি ২০ লিটার তেল জব্দ মুচলেকা দিয়ে পার পেলেন বিক্রেতা Logo রাঙামাটিতে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনায় দোয়া ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ Logo লংগদুতে ছাত্রীর অনিয়মিত উপস্থিতির কথা বলায় শিক্ষককে পিটিয়ে জখম Logo রামগড়ে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু Logo খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি পুলিশের ঝটিকা অভিযান বিদেশী মদ-বিয়ারসহ গ্রেফতার ২ Logo মাইসছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈসাবি মেলা সম্পন্ন সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার বার্তা জোন অধিনায়কের Logo রাঙামাটিতে ছাত্রদলের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ Logo রামগড়ে কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুড়ে ছাই আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র Logo রাঙ্গামাটিতে এডিসি কলোনী মাদ্রাসার সামনে ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিতে রাজপথে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিবন্ধকতা সরানোর জোর দাবি

লংগদু-নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক ১৩ কিলোমিটারের দুর্ভোগে জিম্মি দুই লাখ মানুষের ভাগ্য

রাঙামাটির দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদু ও নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—একটি আধুনিক সংযোগ সড়ক। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ কিলোমিটারের অসমাপ্ত কাজ। দুর্ভোগ যখন চরমে, তখন ঘরে বসে না থেকে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ ভুক্তভোগী মানুষ।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে লংগদু ও নানিয়ারচরের সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে ফুঁসে ওঠে স্থানীয়রা। বক্তারা জানান, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখন এই সড়কটি। কিন্তু ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মাঝখানের ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌ-পথে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হলে খাগড়াছড়ি হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে রাঙামাটি যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় করে। বর্তমানে নানিয়ারচর অংশের রাঙ্গাপাড়া থেকে লংগদু অংশের বড়াদম স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত কাজ থমকে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।

মানববন্ধনে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। নির্মিত সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে দুর্বৃত্তরা গর্ত খুঁড়ে এবং গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি—অবশিষ্ট ১৩ কিলোমিটার সড়কে দ্রুত মাটি ভরাট ও অন্তত চারটি কালভার্ট বা পাইপ স্থাপন করতে হবে।সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে এই সংযোগ সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে কি না এবং কবে শেষ হয় দুই লাখ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন লক্ষ্যমাত্রা ৬৬৫০ শিশু

দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিতে রাজপথে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিবন্ধকতা সরানোর জোর দাবি

লংগদু-নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক ১৩ কিলোমিটারের দুর্ভোগে জিম্মি দুই লাখ মানুষের ভাগ্য

প্রকাশিত: ০৯:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটির দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদু ও নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—একটি আধুনিক সংযোগ সড়ক। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ কিলোমিটারের অসমাপ্ত কাজ। দুর্ভোগ যখন চরমে, তখন ঘরে বসে না থেকে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ ভুক্তভোগী মানুষ।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে লংগদু ও নানিয়ারচরের সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে ফুঁসে ওঠে স্থানীয়রা। বক্তারা জানান, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখন এই সড়কটি। কিন্তু ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মাঝখানের ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌ-পথে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হলে খাগড়াছড়ি হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে রাঙামাটি যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় করে। বর্তমানে নানিয়ারচর অংশের রাঙ্গাপাড়া থেকে লংগদু অংশের বড়াদম স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত কাজ থমকে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।

মানববন্ধনে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। নির্মিত সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে দুর্বৃত্তরা গর্ত খুঁড়ে এবং গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি—অবশিষ্ট ১৩ কিলোমিটার সড়কে দ্রুত মাটি ভরাট ও অন্তত চারটি কালভার্ট বা পাইপ স্থাপন করতে হবে।সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে এই সংযোগ সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে কি না এবং কবে শেষ হয় দুই লাখ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা।