শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত Logo বিজ্ঞানের জয়গান মানিকছড়িতে: শিক্ষার্থীদের চমকপ্রদ উদ্ভাবনী মেলা Logo কেন্দ্রীয় সাইবার দলের সহ-প্রচার সম্পাদক হলেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদ Logo ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড রামগড়: ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মুখে হাসল ‘ত্রাণের চাল’ Logo ২ মাস ধরে ইউএনওহীন মহালছড়ি: অভিভাবকহীন উপজেলায় স্থবিরতা, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ Logo দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পদে ফেরানোর দাবিতে উত্তাল খাগড়াছড়ি: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি Logo আর্থিক অসুবিধায় থাকা কৃষকের পাশে ছাত্রদল, ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন নেতাকর্মীরা Logo রাস্তার ওপরই রাখা হচ্ছে শত শত কেরেট; ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরপাল্লার চালকেরা। Logo ৩ মাসের মাথায় পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, মন্ত্রণালয়ে হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে উত্তাল পরিস্থিতি Logo আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে গোপন আঁতাত ও চাঁদাবাজি, উত্তপ্ত রাঙ্গামাটি বিএনপি
দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিতে রাজপথে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিবন্ধকতা সরানোর জোর দাবি

লংগদু-নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক ১৩ কিলোমিটারের দুর্ভোগে জিম্মি দুই লাখ মানুষের ভাগ্য

রাঙামাটির দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদু ও নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—একটি আধুনিক সংযোগ সড়ক। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ কিলোমিটারের অসমাপ্ত কাজ। দুর্ভোগ যখন চরমে, তখন ঘরে বসে না থেকে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ ভুক্তভোগী মানুষ।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে লংগদু ও নানিয়ারচরের সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে ফুঁসে ওঠে স্থানীয়রা। বক্তারা জানান, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখন এই সড়কটি। কিন্তু ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মাঝখানের ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌ-পথে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হলে খাগড়াছড়ি হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে রাঙামাটি যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় করে। বর্তমানে নানিয়ারচর অংশের রাঙ্গাপাড়া থেকে লংগদু অংশের বড়াদম স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত কাজ থমকে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।

মানববন্ধনে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। নির্মিত সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে দুর্বৃত্তরা গর্ত খুঁড়ে এবং গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি—অবশিষ্ট ১৩ কিলোমিটার সড়কে দ্রুত মাটি ভরাট ও অন্তত চারটি কালভার্ট বা পাইপ স্থাপন করতে হবে।সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে এই সংযোগ সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে কি না এবং কবে শেষ হয় দুই লাখ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত

দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিতে রাজপথে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিবন্ধকতা সরানোর জোর দাবি

লংগদু-নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক ১৩ কিলোমিটারের দুর্ভোগে জিম্মি দুই লাখ মানুষের ভাগ্য

প্রকাশিত: ০৯:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটির দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদু ও নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—একটি আধুনিক সংযোগ সড়ক। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ কিলোমিটারের অসমাপ্ত কাজ। দুর্ভোগ যখন চরমে, তখন ঘরে বসে না থেকে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ ভুক্তভোগী মানুষ।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে লংগদু ও নানিয়ারচরের সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে ফুঁসে ওঠে স্থানীয়রা। বক্তারা জানান, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখন এই সড়কটি। কিন্তু ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মাঝখানের ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌ-পথে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হলে খাগড়াছড়ি হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে রাঙামাটি যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় করে। বর্তমানে নানিয়ারচর অংশের রাঙ্গাপাড়া থেকে লংগদু অংশের বড়াদম স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত কাজ থমকে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।

মানববন্ধনে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। নির্মিত সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে দুর্বৃত্তরা গর্ত খুঁড়ে এবং গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি—অবশিষ্ট ১৩ কিলোমিটার সড়কে দ্রুত মাটি ভরাট ও অন্তত চারটি কালভার্ট বা পাইপ স্থাপন করতে হবে।সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে এই সংযোগ সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে কি না এবং কবে শেষ হয় দুই লাখ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা।