রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীনে সাম্প্রতিক একটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চরম বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক ভারসাম্যহীনতার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের পরিসংখ্যানে বিশাল ব্যবধান এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ‘অজ্ঞতা’ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙ্গামাটির সংগৃহীত তথ্য মতে, সাম্প্রতিক এই নিয়োগে প্রায় ৬৭ শতাংশ উপজাতীয় এবং মাত্র ৩৩ শতাংশ বাঙালি প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই পরিসংখ্যান সরাসরি বৈষম্যের প্রতিফলন এবং এতে যোগ্য অনেক প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন।
ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয় যখন ঐক্যজোটের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে ব্যাখ্যা চান। জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উভয়ই দাবি করেন যে, এই নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই তাদের জানা নেই।
নিয়োগের তথ্য সম্পর্কে যখন প্রশ্ন করা হয়, জেলা প্রশাসক জানান তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি নিয়োগে কোনো কোটা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তিনি নিজের সিএ-র কাছে জানতে চান। যা একটি জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত।— কোটা বিরোধী ঐক্যজোট
ঐক্যজোটের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন যে— তাদের মূল দায়িত্ব ছিল বিভাগীয় কমিশনারের আপ্যায়ন ও দেখাশোনা করা। একজন জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্যকে অপেশাদার এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছে সংগঠনটি।
ঐক্যজোটের ৪ দফা দাবি-নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।বৈষম্যের অভিযোগ নিরসনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।প্রয়োজনে বিতর্কিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ও কোটামুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, প্রশাসনের এই স্বচ্ছতাহীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাব পাহাড়ে সামাজিক বিভাজন ও আস্থাহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলবে। অনতিবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি 














