পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া বিষাদের সুর যেন আছড়ে পড়ছে রাঙামাটির লংগদুতে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার লড়াই শেষ করে না ফেরার দেশে চলে গেছে প্রায় ৬০ বছর বয়সী একটি পুরুষ বন্য হাতি। তবে বনের এই রাজকীয় প্রাণীর প্রস্থান ছাপিয়ে এখন আলোচনায় তার সঙ্গীর ‘অমানবিক’ শোক। মৃত সঙ্গীর নিথর দেহ ছেড়ে যেতে চাইছে না স্ত্রী হাতিটি; বারবার ফিরে আসছে বন্ধুর পাশে, যেন ডাকছে ঘুম ভাঙানোর আকুতিতে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে লংগদু উপজেলার ভাসাইন্না আদম ইউনিয়নে লোকালয়ের কাছাকাছি একটি স্থানে অসুস্থ হাতিটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সকাল ১১টার দিকে নিভে যায় প্রাণীটির জীবনের শেষ প্রদীপ। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও পায়ে গুরুতর ক্ষতে ভুগছিল। একাধিকবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো হলেও শেষ রক্ষা আর হয়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরুষ হাতিটির মৃত্যুর পর থেকে তার সঙ্গী স্ত্রী হাতিটি এক মুহূর্তের জন্যও আড়াল হচ্ছে না। কখনও শুঁড় দিয়ে সঙ্গীর গা ঘষে দিচ্ছে, কখনও বা পাশেই দাঁড়িয়ে নীরব পাহারা দিচ্ছে। বনকর্মীরা দাহ করার প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইলে সেখানেও বাধার সৃষ্টি করছে শোকার্ত হাতিটি। উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখেও জল এনে দিয়েছে অবলা প্রাণীর এই বিরল প্রেম ও শোকের দৃশ্য।
পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বলেন:
আমরা সাধ্যমতো হাতিটির চিকিৎসার চেষ্টা করেছি। পায়ে ইনফেকশন থাকায় সেটি মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এখন আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে লংগদু থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে এবং ময়নাতদন্ত শেষে ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক নিয়ম মেনে দাহ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিপন্ন আবাসস্থল ও পরিবেশবিদদের উদ্বেগ
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাহাড়ে বন উজাড় ও মানুষের বসতি বাড়ার কারণে বন্যপ্রাণীরা খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে লোকালয়ে চলে আসছে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ায় হাতিদের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও অকাল মৃত্যু। পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে হাতির নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি 















