শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo কাপ্তাইয়ে বরইছড়ি মুসলিম সমাজের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‎ Logo রাঙামাটিতে ১৩তম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও কারিগরি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান—কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আলোচনা সভা Logo মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ফুড প্যাকেজ বিতরণ
৬০ বছরের বন্ধুত্বের করুণ অবসান; বন বিভাগের চিকিৎসা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে বন্য হাতিটি

সঙ্গীর নিথর দেহের পাশে নির্ঘুম রাত, লংগদুতে বিরহে কাটল স্ত্রী হাতির সময়

পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া বিষাদের সুর যেন আছড়ে পড়ছে রাঙামাটির লংগদুতে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার লড়াই শেষ করে না ফেরার দেশে চলে গেছে প্রায় ৬০ বছর বয়সী একটি পুরুষ বন্য হাতি। তবে বনের এই রাজকীয় প্রাণীর প্রস্থান ছাপিয়ে এখন আলোচনায় তার সঙ্গীর ‘অমানবিক’ শোক। মৃত সঙ্গীর নিথর দেহ ছেড়ে যেতে চাইছে না স্ত্রী হাতিটি; বারবার ফিরে আসছে বন্ধুর পাশে, যেন ডাকছে ঘুম ভাঙানোর আকুতিতে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে লংগদু উপজেলার ভাসাইন্না আদম ইউনিয়নে লোকালয়ের কাছাকাছি একটি স্থানে অসুস্থ হাতিটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সকাল ১১টার দিকে নিভে যায় প্রাণীটির জীবনের শেষ প্রদীপ। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও পায়ে গুরুতর ক্ষতে ভুগছিল। একাধিকবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো হলেও শেষ রক্ষা আর হয়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরুষ হাতিটির মৃত্যুর পর থেকে তার সঙ্গী স্ত্রী হাতিটি এক মুহূর্তের জন্যও আড়াল হচ্ছে না। কখনও শুঁড় দিয়ে সঙ্গীর গা ঘষে দিচ্ছে, কখনও বা পাশেই দাঁড়িয়ে নীরব পাহারা দিচ্ছে। বনকর্মীরা দাহ করার প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইলে সেখানেও বাধার সৃষ্টি করছে শোকার্ত হাতিটি। উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখেও জল এনে দিয়েছে অবলা প্রাণীর এই বিরল প্রেম ও শোকের দৃশ্য।

পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বলেন:
আমরা সাধ্যমতো হাতিটির চিকিৎসার চেষ্টা করেছি। পায়ে ইনফেকশন থাকায় সেটি মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এখন আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে লংগদু থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে এবং ময়নাতদন্ত শেষে ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক নিয়ম মেনে দাহ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিপন্ন আবাসস্থল ও পরিবেশবিদদের উদ্বেগ
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাহাড়ে বন উজাড় ও মানুষের বসতি বাড়ার কারণে বন্যপ্রাণীরা খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে লোকালয়ে চলে আসছে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ায় হাতিদের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও অকাল মৃত্যু। পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে হাতির নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

৬০ বছরের বন্ধুত্বের করুণ অবসান; বন বিভাগের চিকিৎসা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে বন্য হাতিটি

সঙ্গীর নিথর দেহের পাশে নির্ঘুম রাত, লংগদুতে বিরহে কাটল স্ত্রী হাতির সময়

প্রকাশিত: ০১:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া বিষাদের সুর যেন আছড়ে পড়ছে রাঙামাটির লংগদুতে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার লড়াই শেষ করে না ফেরার দেশে চলে গেছে প্রায় ৬০ বছর বয়সী একটি পুরুষ বন্য হাতি। তবে বনের এই রাজকীয় প্রাণীর প্রস্থান ছাপিয়ে এখন আলোচনায় তার সঙ্গীর ‘অমানবিক’ শোক। মৃত সঙ্গীর নিথর দেহ ছেড়ে যেতে চাইছে না স্ত্রী হাতিটি; বারবার ফিরে আসছে বন্ধুর পাশে, যেন ডাকছে ঘুম ভাঙানোর আকুতিতে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে লংগদু উপজেলার ভাসাইন্না আদম ইউনিয়নে লোকালয়ের কাছাকাছি একটি স্থানে অসুস্থ হাতিটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সকাল ১১টার দিকে নিভে যায় প্রাণীটির জীবনের শেষ প্রদীপ। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও পায়ে গুরুতর ক্ষতে ভুগছিল। একাধিকবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো হলেও শেষ রক্ষা আর হয়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরুষ হাতিটির মৃত্যুর পর থেকে তার সঙ্গী স্ত্রী হাতিটি এক মুহূর্তের জন্যও আড়াল হচ্ছে না। কখনও শুঁড় দিয়ে সঙ্গীর গা ঘষে দিচ্ছে, কখনও বা পাশেই দাঁড়িয়ে নীরব পাহারা দিচ্ছে। বনকর্মীরা দাহ করার প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইলে সেখানেও বাধার সৃষ্টি করছে শোকার্ত হাতিটি। উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখেও জল এনে দিয়েছে অবলা প্রাণীর এই বিরল প্রেম ও শোকের দৃশ্য।

পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বলেন:
আমরা সাধ্যমতো হাতিটির চিকিৎসার চেষ্টা করেছি। পায়ে ইনফেকশন থাকায় সেটি মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এখন আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে লংগদু থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে এবং ময়নাতদন্ত শেষে ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক নিয়ম মেনে দাহ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিপন্ন আবাসস্থল ও পরিবেশবিদদের উদ্বেগ
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাহাড়ে বন উজাড় ও মানুষের বসতি বাড়ার কারণে বন্যপ্রাণীরা খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে লোকালয়ে চলে আসছে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ায় হাতিদের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও অকাল মৃত্যু। পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে হাতির নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।