পার্বত্য জনপদ নানিয়ারচরের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে অনুষ্ঠিত হলো ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তরের মাধ্যমে পুষ্টি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে (PARTNER) প্রকল্পের আওতায় এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।
শনিবার (২ মে) নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ হল রুমে আয়োজিত এই সম্মেলনে কৃষি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা পাহাড়ি কৃষিকে আধুনিক ও রপ্তানিমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা টেকসই কৃষি ব্যবস্থার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন:উত্তম কৃষি চর্চা (GAP): ফল ও সবজি উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ধাপসমূহ বাস্তবায়ন।শুধু ধান নয়, ডাল, তৈলবীজ এবং উদ্যান ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধি।আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন ও দ্রুত সম্প্রসারণ।নির্দিষ্ট কৃষি পণ্যকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বাজারজাতকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ জোরদার।
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কম্পোস্ট সার ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। নানিয়ারচরের আনারসসহ অন্যান্য ফলের গুণগত মান উন্নয়ন করতে পারলে আমরা বিশ্ববাজারে বড় অবস্থান তৈরি করতে পারবে।মোঃ মনিরুজ্জামান, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাঙামাটি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মোঃ মনিরুজ্জামান আরও জানান, অতিরিক্ত হরমোন প্রয়োগ বন্ধ করে প্রাকৃতিক উপায়ে ফলন বাড়াতে হবে। বিশেষ করে নানিয়ারচরের আনারসের খ্যাতি দেশজুড়ে, এখন লক্ষ্য হচ্ছে এই ফলকে বিদেশে রপ্তানির উপযুক্ত করে তোলা।
নানিয়ারচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হারুন মিয়া’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:মোঃ ফারুক হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনপি।অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান), রাঙামাটি।মোঃ শাহরিয়াজ বিশ্বাস, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার, পার্টনার প্রকল্প।মোঃ আজিজুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার।
সম্মেলন শেষে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও নিরাপদ চাষাবাদ নিয়ে উৎসাহ প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নে নানিয়ারচরের কৃষি চিত্র আমূল বদলে যাবে।
স্টাপ রিপোটার 








