শিরোনামঃ
Logo দেশবরেণ্য সাংবাদিক সাঈদুর রহমান রিমনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিআরএর দোয়া মাহফিল Logo পাহাড়ে রোমাঞ্চের করুণ পরিণতি: রুমায় মোটরসাইকেল খাদে পর্যটক নিহত ২ Logo খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ৫ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বেহাল: একটু সংস্কারের আকুতি ইউপি সদস্যের Logo রাঙামাটিতে সাঁড়াশি অভিযান: ১৪ মামলার পলাতক শীর্ষ আসামিসহ গ্রেপ্তার ৮, ইয়াবা ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার Logo লংগদুতে সুশিক্ষা ও নৈতিকতার বার্তা: ভাসান্যাদম দাখিল মাদরাসায় সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ ও সবুজায়ন Logo রাঙ্গামাটিতে কিশোর কণ্ঠ পাঠক ফোরামের ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’ শুরু Logo মানিকছড়িতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন Logo কেংড়াছড়ি জোন উচ্চ বিদ্যালয়: রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ের শিক্ষার আলো ছড়াতে নতুন উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শনে জেলা পরিষদ সদস্য Logo পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার বার্তা: রাঙ্গামাটিতে জেলা পুলিশের মাস্টার ও কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত Logo রাঙামাটি বায়তুশ শরফ মাদ্রাসায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উদযাপিত: নতুন প্রজন্মকে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান
গৌতম বুদ্ধের ২৫৭০তম জন্মতিথিতে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ; বিশ্বশান্তি কামনায় ভিক্ষু ও দায়ক-দায়িকাদের প্রার্থনা।

রাঙামাটিতে মৈত্রী ও শান্তির বার্তা: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

পাহাড়ের অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা)। শুক্রবার (০১ মে ২০২৬) সকালে রাঙামাটি শহরে আয়োজিত বর্ণিল ও বিশাল ধর্মীয় শোভাযাত্রাটি পরিণত হয় শান্তি ও মানবতার এক মিলনমেলায়।

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা ও ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ উপলক্ষে আয়োজিত এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে এই মিছিলে অংশ নেন শত শত ভিক্ষু-শ্রমণ এবং বিপুল সংখ্যক উপাসক-উপাসিকা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী তরুণীদের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল পাহাড়ি পোশাক, যা পুরো আয়োজনকে এক অনন্য রূপ দান করে। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে শোভা পাচ্ছিল গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও বিশ্বশান্তির অমিয় বাণী।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য পরম পবিত্র। এই দিনটি ঘিরে অহিংসা, সহনশীলতা ও দয়া ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে শহরের বিহারগুলোতে সমবেত প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণের মাধ্যমে দিনটির মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান অশান্ত বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গৌতম বুদ্ধের জীবন দর্শন ও আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

শহর জুড়ে উৎসবমুখর এই পরিবেশ ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এই বর্ণাঢ্য উৎসব। পাহাড়ের সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে এই আয়োজন রাঙামাটির চিরচেনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশবরেণ্য সাংবাদিক সাঈদুর রহমান রিমনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিআরএর দোয়া মাহফিল

গৌতম বুদ্ধের ২৫৭০তম জন্মতিথিতে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ; বিশ্বশান্তি কামনায় ভিক্ষু ও দায়ক-দায়িকাদের প্রার্থনা।

রাঙামাটিতে মৈত্রী ও শান্তির বার্তা: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

প্রকাশিত: ০৩:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

পাহাড়ের অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা)। শুক্রবার (০১ মে ২০২৬) সকালে রাঙামাটি শহরে আয়োজিত বর্ণিল ও বিশাল ধর্মীয় শোভাযাত্রাটি পরিণত হয় শান্তি ও মানবতার এক মিলনমেলায়।

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা ও ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ উপলক্ষে আয়োজিত এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে এই মিছিলে অংশ নেন শত শত ভিক্ষু-শ্রমণ এবং বিপুল সংখ্যক উপাসক-উপাসিকা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী তরুণীদের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল পাহাড়ি পোশাক, যা পুরো আয়োজনকে এক অনন্য রূপ দান করে। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে শোভা পাচ্ছিল গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও বিশ্বশান্তির অমিয় বাণী।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য পরম পবিত্র। এই দিনটি ঘিরে অহিংসা, সহনশীলতা ও দয়া ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে শহরের বিহারগুলোতে সমবেত প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণের মাধ্যমে দিনটির মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান অশান্ত বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গৌতম বুদ্ধের জীবন দর্শন ও আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

শহর জুড়ে উৎসবমুখর এই পরিবেশ ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এই বর্ণাঢ্য উৎসব। পাহাড়ের সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে এই আয়োজন রাঙামাটির চিরচেনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।