পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড় উপজেলায় পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরিচালিত এই চিরুনি অভিযানে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের একজন সদস্য নিহত হয়েছে এবং অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে আরও দুইজন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার বরকলক এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালানো হয়। সেখানে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। সেনাবাহিনীও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির একপর্যায়ে কোণঠাসা হয়ে সশস্ত্র সংগঠনের ২ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি একে-৪৭ রাইফেল, ২টি ম্যাগাজিন এবং ১৩২ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে আজ বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে রামগড় উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানেও তল্লাশি চৌকি ও সেনা তৎপরতা লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলি বিনিময় হয়। গোলাগুলি থেমে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে সশস্ত্র সংগঠনের ১ জন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে ১টি একে-৪৭ রাইফেল, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি পাইপগান, ২৭ রাউন্ড গোলাবারুদসহ অন্যান্য সামরিক সামগ্রী উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এই ধরণের কঠোর ও জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকবে।


















