জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এক অনন্য ও বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভিত্তিক আড়াই লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
সোমবার (২২ জুন ২০২৬) মহালছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে “সুন্দর-সুশৃঙ্খল ও একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে” এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে মহালছড়ি উপজেলার ৪নং মাইসছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি মুসলিমপাড়ার মুন্সি আব্দুর রউফ উচ্চ বিদ্যালয়ে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন মহালছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ, পিএসসি। উদ্বোধনী দিনেই স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে প্রায় ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়।
একই দিনে মহালছড়ি উপজেলার আরও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়,লেমুৃছড়ি শান্তিপুর বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,চৌংড়াছড়ি শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের উচ্চ বিদ্যালয়।
মহালছড়ি জোন সূত্রে জানা গেছে, ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুরো উপজেলায় পর্যায়ক্রমে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হবে। সেনাবাহিনীর এই মহতি উদ্যোগটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মহালছড়ি জোনের আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নের ১৭টি পাড়ায় স্থানীয় বাঙ্গালী ও অ- বাঙ্গালী জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই বিশাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। যা পাহাড়ে সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আজ যে চারা রোপণ করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময় তিনি শুধু গাছ লাগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, চারাগুলোর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর এই সবুজ বিপ্লবের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাঙ্গালী ও অ-বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী।















