অনলাইন জুয়ার ভয়ঙ্কর নেশা ও পারিবারিক সহিংসতার নির্মম শিকার হলো ১০ মাস বয়সী এক অবুঝ শিশু। চট্টগ্রাম নগরীতে জুয়াড়ি বাবার নির্মমতার শিকার হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশু ‘তাবাসসুম’। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পাষণ্ড বাবার আছাড়ে শিশুটির কোমরের হাড় ভেঙে গেছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় সে এখন মৃত্যুর সাথে লড়ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন ধরেই অনলাইন মোবাইল জুয়ায় আসক্ত। জুয়ার টাকার জোগান দিতে ইতিপূর্বেই ঘরের আসবাবপত্রসহ মূল্যবান সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছে সে। আজ সকালে আবারও জুয়া খেলতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীর সাথে প্রচণ্ড ঝগড়ায় লিপ্ত হয় ওই ব্যক্তি।
ঝগড়ার এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মায়ের কোলে থাকা ১০ মাসের নিষ্পাপ শিশু তাবাসসুমকে জোরপূর্বক টান দিয়ে কেড়ে নিয়ে পাকা ফ্লোরে ছুড়ে মারে তার বাবা। ফ্লোরে আছাড় খেয়ে শিশুটি তাৎক্ষণিক জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মায়ের আর্তনাদেও মন গলেনি সেই পাষাণের। উল্টো স্ত্রীর কান থেকে শেষ সম্বল সোনার দুলটি ছিঁড়ে নেয় এবং বাজার করার জন্য রাখা মাত্র ৩৫০ টাকা কেড়ে নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত ও অজ্ঞান অবস্থায় শিশু তাবাসসুমকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান:
এক্স-রে রিপোর্টে দেখা গেছে, মারাত্মক আছাড়ের কারণে শিশুটির কোমরের হাড় (Pelvic/Hip) ভেঙে গেছে।
মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগার কারণে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুটির বয়স অত্যন্ত কম হওয়ায় চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
এত ছোট শিশুর ওপর এমন শারীরিক নির্যাতন অত্যন্ত ভয়াবহ ও নজিরবিহীন। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। মাথার আঘাতটি কতটা গুরুতর তা নিশ্চিত হতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন।
জুয়া যখন মানসিক বিকৃতি: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
মনোবিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়ার আসক্তি কেবল আর্থিক ক্ষতিই করে না, এটি মানুষের স্বাভাবিক মস্তিষ্ক ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে গ্যাম্বলিং ডিজঅর্ডার’ (Gambling Disorder) বলা হয়। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি চরম উগ্র, সহিংস এবং হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে—যার এক চরম ও ভয়াবহ রূপ দেখা গেল এই ছোট্ট শিশুটির ওপর।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
এই পৈশাচিক ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। একজন জন্মদাতা পিতা কীভাবে নিজের ১০ মাসের সন্তানের সাথে এমন বর্বরতা করতে পারে, তা ভেবে শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা। জুয়াড়ি ও নির্যাতনকারী সেই বাবাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও মানবাধিকার কর্মীরা।


















