শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo কাপ্তাইয়ে বরইছড়ি মুসলিম সমাজের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‎ Logo রাঙামাটিতে ১৩তম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও কারিগরি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান—কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আলোচনা সভা Logo মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ফুড প্যাকেজ বিতরণ
যান্ত্রিক ত্রুটিতে তলিয়ে যাচ্ছিল নৌকা, অন্ধকারের মধ্যে দেবদূতের মতো হাজির সেনাসদস্যরা

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে মাঝহ্রদে নৌকাডুবি সেনাবাহিনীর তড়িৎ অভিযানে প্রাণ বাঁচল শিশু-গর্ভবতীসহ ১১ জনের

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে আবারও বিপদে মানুষের শেষ ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবির কবলে পড়া নারী ও শিশুসহ ১১ জন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছে সেনাসদস্যরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর আওতাধীন রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের নিকটবর্তী কারবারি পাড়া এলাকায় একটি নৌকা যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। ত্রুটির একপর্যায়ে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। নৌকায় থাকা ১১ জন আরোহীর মধ্যে নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল তৎপরতায় একে একে ১১ জনকেই নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাবাহিনী কালক্ষেপণ না করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বাকি শিশু ও পুরুষদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও পেশাদার পদক্ষেপ বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করেছে স্থানীয় ত্রিপুরা পরিবারগুলোকে। এই মানবিক সহায়তার জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জুরাছড়ি জোন সূত্রে জানানো হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যেকোনো দুর্যোগ, বিপদ ও আপদে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই উদ্ধার অভিযান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সেবার মানসিকতারই একটি অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

যান্ত্রিক ত্রুটিতে তলিয়ে যাচ্ছিল নৌকা, অন্ধকারের মধ্যে দেবদূতের মতো হাজির সেনাসদস্যরা

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে মাঝহ্রদে নৌকাডুবি সেনাবাহিনীর তড়িৎ অভিযানে প্রাণ বাঁচল শিশু-গর্ভবতীসহ ১১ জনের

প্রকাশিত: ০৫:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে আবারও বিপদে মানুষের শেষ ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবির কবলে পড়া নারী ও শিশুসহ ১১ জন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছে সেনাসদস্যরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর আওতাধীন রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের নিকটবর্তী কারবারি পাড়া এলাকায় একটি নৌকা যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। ত্রুটির একপর্যায়ে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। নৌকায় থাকা ১১ জন আরোহীর মধ্যে নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল তৎপরতায় একে একে ১১ জনকেই নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাবাহিনী কালক্ষেপণ না করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বাকি শিশু ও পুরুষদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও পেশাদার পদক্ষেপ বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করেছে স্থানীয় ত্রিপুরা পরিবারগুলোকে। এই মানবিক সহায়তার জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জুরাছড়ি জোন সূত্রে জানানো হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যেকোনো দুর্যোগ, বিপদ ও আপদে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই উদ্ধার অভিযান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সেবার মানসিকতারই একটি অংশ।