শিরোনামঃ
Logo কেংড়াছড়ি জোন উচ্চ বিদ্যালয়: রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ের শিক্ষার আলো ছড়াতে নতুন উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শনে জেলা পরিষদ সদস্য Logo পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার বার্তা: রাঙ্গামাটিতে জেলা পুলিশের মাস্টার ও কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত Logo রাঙামাটি বায়তুশ শরফ মাদ্রাসায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উদযাপিত: নতুন প্রজন্মকে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান Logo সিন্দুকছড়ি জোনে মাসিক মতবিনিময় সভা: সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও অপপ্রচার রোধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান Logo সামরিক বাহিনীর মানবিক হাত: মানিকছড়ির পাহাড় ঘেঁষা দুর্গম জনপদে আশার আলো Logo মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ‘আশিকা’: খাদ্য, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ উপকরণ পেয়ে মুখে হাসির ঝিলিক Logo মহালছড়িতে ৩৫০ কৃষকের ঘরে আশার আলো: বিনামূল্যে মিলল সার ও বীজ Logo সেতু ঝুঁকিতে ফেলে মাটি সাবাড়! হাতেনাতে ধরে জরিমানা আদায় করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য: উদ্ধার বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ভারতীয় রুপি Logo আইনি ব্যাখ্যার পর ৯৩% মেধা ও ৭% কোটায় দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি
যান্ত্রিক ত্রুটিতে তলিয়ে যাচ্ছিল নৌকা, অন্ধকারের মধ্যে দেবদূতের মতো হাজির সেনাসদস্যরা

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে মাঝহ্রদে নৌকাডুবি সেনাবাহিনীর তড়িৎ অভিযানে প্রাণ বাঁচল শিশু-গর্ভবতীসহ ১১ জনের

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে আবারও বিপদে মানুষের শেষ ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবির কবলে পড়া নারী ও শিশুসহ ১১ জন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছে সেনাসদস্যরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর আওতাধীন রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের নিকটবর্তী কারবারি পাড়া এলাকায় একটি নৌকা যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। ত্রুটির একপর্যায়ে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। নৌকায় থাকা ১১ জন আরোহীর মধ্যে নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল তৎপরতায় একে একে ১১ জনকেই নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাবাহিনী কালক্ষেপণ না করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বাকি শিশু ও পুরুষদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও পেশাদার পদক্ষেপ বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করেছে স্থানীয় ত্রিপুরা পরিবারগুলোকে। এই মানবিক সহায়তার জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জুরাছড়ি জোন সূত্রে জানানো হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যেকোনো দুর্যোগ, বিপদ ও আপদে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই উদ্ধার অভিযান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সেবার মানসিকতারই একটি অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেংড়াছড়ি জোন উচ্চ বিদ্যালয়: রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ের শিক্ষার আলো ছড়াতে নতুন উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শনে জেলা পরিষদ সদস্য

যান্ত্রিক ত্রুটিতে তলিয়ে যাচ্ছিল নৌকা, অন্ধকারের মধ্যে দেবদূতের মতো হাজির সেনাসদস্যরা

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে মাঝহ্রদে নৌকাডুবি সেনাবাহিনীর তড়িৎ অভিযানে প্রাণ বাঁচল শিশু-গর্ভবতীসহ ১১ জনের

প্রকাশিত: ০৫:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে আবারও বিপদে মানুষের শেষ ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবির কবলে পড়া নারী ও শিশুসহ ১১ জন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছে সেনাসদস্যরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর আওতাধীন রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের নিকটবর্তী কারবারি পাড়া এলাকায় একটি নৌকা যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। ত্রুটির একপর্যায়ে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। নৌকায় থাকা ১১ জন আরোহীর মধ্যে নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল তৎপরতায় একে একে ১১ জনকেই নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাবাহিনী কালক্ষেপণ না করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বাকি শিশু ও পুরুষদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও পেশাদার পদক্ষেপ বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করেছে স্থানীয় ত্রিপুরা পরিবারগুলোকে। এই মানবিক সহায়তার জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জুরাছড়ি জোন সূত্রে জানানো হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যেকোনো দুর্যোগ, বিপদ ও আপদে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই উদ্ধার অভিযান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সেবার মানসিকতারই একটি অংশ।