শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর যাত্রা শুরু Logo কাপ্তাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’: ৫০৩ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধন Logo হারানো ৫০টির বেশি ফোন উদ্ধার করে মালিকদের হাসিমুখ ফিরিয়ে দিল রাঙ্গামাটি পুলিশ Logo কাপ্তাই চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন: প্রথম দিনেই ফরম নিলেন ১ প্রার্থী, চাঞ্চল্য ভোটারদের মাঝে Logo রামগড়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির রশিদসহ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক Logo কাপ্তাইয়ে চেকপোস্টে পুলিশের জালে ইয়াবাসহ আটক ১ Logo পানছড়িতে বৈধ ইজারাদারদের তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির শঙ্কা Logo কাপ্তাইয়ে ৫ পিস ইয়াবাসহ চাকমা যুবক আটক, মোটরসাইকেল জব্দ Logo মহালছড়িতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ স্লোগানে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা Logo মানিকছড়িতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত: ৪ উদ্যোক্তাকে যুব ঋণের চেক ও সনদ বিতরণ
যান্ত্রিক ত্রুটিতে তলিয়ে যাচ্ছিল নৌকা, অন্ধকারের মধ্যে দেবদূতের মতো হাজির সেনাসদস্যরা

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে মাঝহ্রদে নৌকাডুবি সেনাবাহিনীর তড়িৎ অভিযানে প্রাণ বাঁচল শিশু-গর্ভবতীসহ ১১ জনের

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে আবারও বিপদে মানুষের শেষ ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবির কবলে পড়া নারী ও শিশুসহ ১১ জন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছে সেনাসদস্যরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর আওতাধীন রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের নিকটবর্তী কারবারি পাড়া এলাকায় একটি নৌকা যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। ত্রুটির একপর্যায়ে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। নৌকায় থাকা ১১ জন আরোহীর মধ্যে নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল তৎপরতায় একে একে ১১ জনকেই নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাবাহিনী কালক্ষেপণ না করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বাকি শিশু ও পুরুষদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও পেশাদার পদক্ষেপ বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করেছে স্থানীয় ত্রিপুরা পরিবারগুলোকে। এই মানবিক সহায়তার জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জুরাছড়ি জোন সূত্রে জানানো হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যেকোনো দুর্যোগ, বিপদ ও আপদে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই উদ্ধার অভিযান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সেবার মানসিকতারই একটি অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর যাত্রা শুরু

যান্ত্রিক ত্রুটিতে তলিয়ে যাচ্ছিল নৌকা, অন্ধকারের মধ্যে দেবদূতের মতো হাজির সেনাসদস্যরা

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে মাঝহ্রদে নৌকাডুবি সেনাবাহিনীর তড়িৎ অভিযানে প্রাণ বাঁচল শিশু-গর্ভবতীসহ ১১ জনের

প্রকাশিত: ০৫:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে আবারও বিপদে মানুষের শেষ ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবির কবলে পড়া নারী ও শিশুসহ ১১ জন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছে সেনাসদস্যরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর আওতাধীন রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের নিকটবর্তী কারবারি পাড়া এলাকায় একটি নৌকা যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। ত্রুটির একপর্যায়ে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। নৌকায় থাকা ১১ জন আরোহীর মধ্যে নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল তৎপরতায় একে একে ১১ জনকেই নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাবাহিনী কালক্ষেপণ না করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বাকি শিশু ও পুরুষদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও পেশাদার পদক্ষেপ বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করেছে স্থানীয় ত্রিপুরা পরিবারগুলোকে। এই মানবিক সহায়তার জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জুরাছড়ি জোন সূত্রে জানানো হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যেকোনো দুর্যোগ, বিপদ ও আপদে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই উদ্ধার অভিযান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সেবার মানসিকতারই একটি অংশ।