শিরোনামঃ
Logo মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত Logo বিজ্ঞানের জয়গান মানিকছড়িতে: শিক্ষার্থীদের চমকপ্রদ উদ্ভাবনী মেলা Logo কেন্দ্রীয় সাইবার দলের সহ-প্রচার সম্পাদক হলেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদ Logo ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড রামগড়: ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মুখে হাসল ‘ত্রাণের চাল’ Logo ২ মাস ধরে ইউএনওহীন মহালছড়ি: অভিভাবকহীন উপজেলায় স্থবিরতা, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ Logo দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পদে ফেরানোর দাবিতে উত্তাল খাগড়াছড়ি: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি Logo আর্থিক অসুবিধায় থাকা কৃষকের পাশে ছাত্রদল, ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন নেতাকর্মীরা Logo রাস্তার ওপরই রাখা হচ্ছে শত শত কেরেট; ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরপাল্লার চালকেরা। Logo ৩ মাসের মাথায় পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, মন্ত্রণালয়ে হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে উত্তাল পরিস্থিতি Logo আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে গোপন আঁতাত ও চাঁদাবাজি, উত্তপ্ত রাঙ্গামাটি বিএনপি
যান্ত্রিক ত্রুটিতে তলিয়ে যাচ্ছিল নৌকা, অন্ধকারের মধ্যে দেবদূতের মতো হাজির সেনাসদস্যরা

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে মাঝহ্রদে নৌকাডুবি সেনাবাহিনীর তড়িৎ অভিযানে প্রাণ বাঁচল শিশু-গর্ভবতীসহ ১১ জনের

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে আবারও বিপদে মানুষের শেষ ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবির কবলে পড়া নারী ও শিশুসহ ১১ জন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছে সেনাসদস্যরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর আওতাধীন রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের নিকটবর্তী কারবারি পাড়া এলাকায় একটি নৌকা যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। ত্রুটির একপর্যায়ে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। নৌকায় থাকা ১১ জন আরোহীর মধ্যে নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল তৎপরতায় একে একে ১১ জনকেই নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাবাহিনী কালক্ষেপণ না করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বাকি শিশু ও পুরুষদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও পেশাদার পদক্ষেপ বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করেছে স্থানীয় ত্রিপুরা পরিবারগুলোকে। এই মানবিক সহায়তার জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জুরাছড়ি জোন সূত্রে জানানো হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যেকোনো দুর্যোগ, বিপদ ও আপদে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই উদ্ধার অভিযান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সেবার মানসিকতারই একটি অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত

যান্ত্রিক ত্রুটিতে তলিয়ে যাচ্ছিল নৌকা, অন্ধকারের মধ্যে দেবদূতের মতো হাজির সেনাসদস্যরা

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে মাঝহ্রদে নৌকাডুবি সেনাবাহিনীর তড়িৎ অভিযানে প্রাণ বাঁচল শিশু-গর্ভবতীসহ ১১ জনের

প্রকাশিত: ০৫:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে আবারও বিপদে মানুষের শেষ ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবির কবলে পড়া নারী ও শিশুসহ ১১ জন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছে সেনাসদস্যরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর আওতাধীন রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের নিকটবর্তী কারবারি পাড়া এলাকায় একটি নৌকা যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। ত্রুটির একপর্যায়ে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। নৌকায় থাকা ১১ জন আরোহীর মধ্যে নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল তৎপরতায় একে একে ১১ জনকেই নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাবাহিনী কালক্ষেপণ না করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বাকি শিশু ও পুরুষদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও পেশাদার পদক্ষেপ বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করেছে স্থানীয় ত্রিপুরা পরিবারগুলোকে। এই মানবিক সহায়তার জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জুরাছড়ি জোন সূত্রে জানানো হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যেকোনো দুর্যোগ, বিপদ ও আপদে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই উদ্ধার অভিযান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সেবার মানসিকতারই একটি অংশ।