চট্টগ্রামের বাগান বাজার এলাকায় একটি পরিবারের ওপর একের পর এক নৃশংস চুরির ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এবার খাবারের সাথে উচ্চমাত্রার নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে এক দুর্ধর্ষ চোরচক্র। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বাগান বাজার গার্ডের দোকান সংলগ্ন এলাকার হাজী শরীয়ত উল্লাহর মেজো ছেলে আব্দুল মতিনের বাড়িতে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে এই পরিবারটি পরিকল্পিতভাবে চোরদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। তবে এবারের ঘটনাটি পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ ও দুর্ধর্ষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত সুকৌশলে আব্দুল মতিনের ঘরের রাতের খাবারের সাথে তীব্র মাত্রার নেশাদ্রব্য মিশিয়ে দেয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আব্দুল মতিনসহ পরিবারের সকল সদস্য গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এই সুযোগে চোরচক্র ঘরে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান আসবাবপত্র লুটে নেয়। এমনকি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসা মতিনের মেয়ের গলার এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইনটিও ছিনিয়ে নেয় তারা।
পরদিন সকালে দীর্ঘক্ষণ ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা সন্দেহবশত ভেতরে গিয়ে সবাইকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খাবারে উচ্চমাত্রার বিষাক্ত দ্রব্য মেশানোর ফলে দীর্ঘ সময় পার হলেও রোগীদের জ্ঞান ফিরছে না। তাদের শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
বারবার একই পরিবারকে লক্ষ্য করে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় বাগান বাজার ও আশপাশ এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তারা বারবার এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে।এই বিষয়ে ভুজপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানায়, জড়িতদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক,রামগড় 























