নানা কর্মসূচি, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ভূমিহীনদের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণের মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে দলের নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে জেলা নেতৃবৃন্দ আগামী দিনেও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
রোববার (১৪ জুন) সকালে রাঙামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় পার্টির অস্থায়ী কার্যালয়ে ভূমিহীনদের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ ও এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পুনর্মিলনী সভায় বক্তব্য রাখেন—পার্টির সাধারণ সম্পাদক জুঁই চাকমা, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আবুল হাসেম, সমাজসেবক বিপিন জ্যোতি চাকমা এবং রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এস এম সামশুল আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে নির্মল বড়ুয়া মিলন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে পার্টির অবদান তুলে ধরে বলেন,
ফ্যাসিবাদবিরোধী সেই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের পার্টির দুই অকুতোভয় সদস্য বদিউজ্জামান ও আবদুল লতিফ শহীদ হয়েছেন এবং শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২০২৫ সালে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ‘জুলাই সনদ’-এর অন্যতম স্বাক্ষরকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, যার মধ্যে রাঙামাটি-২৯৯ আসনে পার্টির সাধারণ সম্পাদক জুঁই চাকমা ‘কোদাল’ প্রতীক নিয়ে লড়েন।
পার্বত্য অঞ্চলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্মল বড়ুয়া মিলন বলেন, “রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করায় জেলার সাধারণ মানুষ মর্মাহত ও শঙ্কিত হয়েছেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে পার্টির সাধারণ সম্পাদক জুঁই চাকমা বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মাঠের আন্দোলনে আমাদের পার্টি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। রাঙামাটির জনগণের কাছে আমাদের গভীর দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনস্বার্থে রাজপথে নামতে আমরা কখনো সংকোচবোধ করব না।” তিনি আগামী দিনে প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এস এম সামশুল আলম বলেন, “জনজীবনের নানা সংকট, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ভূমি বেদখলের মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাঙামাটির সাংবাদিক সমাজ সব সময়ই বলিষ্ঠ ও আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।













