পার্বত্য খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার থেকে শুরু করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী। গুইমারা রিজিয়নের অধীনস্থ সিন্দুকছড়ি জোনের এই কল্যাণমূলক কার্যক্রম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
সবুজ পাহাড়ে ঘেরা খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম। যেখানে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে ছিল ‘দক্ষিণ হাফছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। ভাঙা চাল আর নড়বড়ে বেড়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছিল উপজাতীয় শিশুদের পাঠদান।
শিক্ষার এই অচলাবস্থা দূর করতে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোন। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন ও শ্রমে বিদ্যালয়টি পুনঃসংস্কার করে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি নিরাপদ ও সুন্দর বারান্দা, যা এখন অ-বাঙ্গালী (পাহাড়ি) শিশুদের পদচারণায় মুখরিত।
কেবল ভবন সংস্কারই নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করে সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে বিতরণ করা হয়েছে আকর্ষণীয় ক্রীড়া সামগ্রী। একই সাথে দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। নতুন ব্যাগ আর খাতা-কলম পেয়ে আনন্দে আত্মহারা পাহাড়ের এই কোমলমতি শিশুরা।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসমাইল শামস আজিজি জোন কমান্ডার বলেন তোমরা নিয়মিত পড়াশোনা করবে এবং নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। শিক্ষার মাধ্যমেই তোমরা আগামী দিনে এই পার্বত্য অঞ্চল তথা পুরো দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।
সেনাবাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মনে। দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখার এই ইতিবাচক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের।
















