জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের (UNPFII) ২৫তম অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি নিয়ে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) কর্তৃক উপস্থাপিত তথ্যকে ‘বিভ্রান্তিমূলক, অতিরঞ্জিত ও অসত্য’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার শুধু অনৈতিকই নয়, বরং তা পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথকে আরও জটিল করে তুলছে।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোট তাদের বিবৃতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে-উন্নয়ন ও বাস্তবতা অস্বীকার: পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, জেএসএস তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এড়িয়ে গেছে।
সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ সংলাপ বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। যেকোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা বা সীমাবদ্ধতা বিদেশি মঞ্চে উপস্থাপন না করে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ ধাপে ধাপে এগোলেও, এ ধরনের একতরফা নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরা দেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান: যাচাইবিহীন বা একপাক্ষিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে পার্বত্য অঞ্চলের প্রকৃত বাস্তবতা অনুধাবন করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রকৃত চাওয়া—শান্তি, উন্নয়ন ও সম্মানজনক সহাবস্থান। আন্তর্জাতিক ফোরামে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো গোষ্ঠীর সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা দেশের অর্জিত অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।-পাইশিখই মারমা, মুখপাত্র, সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি রক্ষার প্রশ্নে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট আপসহীন। যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা সোচ্চার থাকবে এবং সত্যের শক্তিতেই শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তি শক্তিশালী হবে বলে তারা বিশ্বাস করে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









