শিরোনামঃ
Logo রাজপথের পরীক্ষিত লড়াই থেকে ভোটের ময়দানে: ভিপি শাহীনের জন্মদিনে নেতাকর্মীদের উল্লাস Logo খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বিএনপির প্রস্তুতি সভায় হামলা: আহত ৪, চমেক হাসপাতালে প্রেরিত ৩ Logo টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান: গুলিবিনিময়ে সেনাসদস্য শহীদ, জিম্মি থেকে মুক্ত ৫৭ Logo মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: চিকিৎসা ও ওষুধ পেলেন দুর্গম এলাকার শতাধিক অ-বাঙালি পাহাড়ি Logo মহালছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর যাত্রা শুরু Logo কাপ্তাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’: ৫০৩ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধন Logo হারানো ৫০টির বেশি ফোন উদ্ধার করে মালিকদের হাসিমুখ ফিরিয়ে দিল রাঙ্গামাটি পুলিশ Logo কাপ্তাই চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন: প্রথম দিনেই ফরম নিলেন ১ প্রার্থী, চাঞ্চল্য ভোটারদের মাঝে Logo রামগড়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির রশিদসহ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক Logo কাপ্তাইয়ে চেকপোস্টে পুলিশের জালে ইয়াবাসহ আটক ১
সিন্দুকছড়ি জোনের সেনাবাহিনীর তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলেন রক্তাক্ত শ্রমিকরা, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

চাঁদার দাবিতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ১৬ শ্রমিক, গুইমারায় ইউপিডিএফের নির্মম মারধর

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে উন্নয়নকাজের সাথে জড়িত ১৬ জন সড়ক নির্মাণ শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্মমভাবে মারধর করেছে পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল)-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। গত ১৪ জুন, রবিবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার ৩নং সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের ১নং মুড়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে আসে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মুড়াপাড়া এলাকায় একটি নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ করছিলেন ১৫ জন বাঙালি ও ১ জন অ-বাঙালি শ্রমিক। দুপুরের দিকে ইউপিডিএফ (মূল) দলের পোস্ট পরিচালক নিশান মারমার নেতৃত্বে ৩ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী আকস্মিকভাবে কাজের সাইটে হানা দেয়। তারা আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে কর্মরত শ্রমিকদের সম্পূর্ণ জিম্মি করে ফেলে এবং লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। সন্ত্রাসীদের নির্মম পিটুনিতে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।

আহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন—আনিছুর রহমান, খোকন হোসেন, সাদ্দাম হোসেন ও বেলাল হোসেনসহ মোট ১৬ জন। আক্রান্ত শ্রমিকদের সকলের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মারধরের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুড়াপাড়ার ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন রাস্তাটি নির্মাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিশাল বরাদ্দের একটি বড় অংশ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা চাঁদা হিসেবে দাবি করেছিল। ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধ না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিরীহ শ্রমিকদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালায় তারা।

ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে দ্রুত অ্যাকশনে নামে সিন্দুকছড়ি জোনের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল মুড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্তাক্ত ও আতঙ্কিত শ্রমিকদের উদ্ধার করে। আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই ঘটনার পর থেকে মুড়াপাড়া ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের দমনে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজপথের পরীক্ষিত লড়াই থেকে ভোটের ময়দানে: ভিপি শাহীনের জন্মদিনে নেতাকর্মীদের উল্লাস

সিন্দুকছড়ি জোনের সেনাবাহিনীর তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলেন রক্তাক্ত শ্রমিকরা, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

চাঁদার দাবিতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ১৬ শ্রমিক, গুইমারায় ইউপিডিএফের নির্মম মারধর

প্রকাশিত: ০৪:১৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে উন্নয়নকাজের সাথে জড়িত ১৬ জন সড়ক নির্মাণ শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্মমভাবে মারধর করেছে পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল)-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। গত ১৪ জুন, রবিবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার ৩নং সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের ১নং মুড়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে আসে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মুড়াপাড়া এলাকায় একটি নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ করছিলেন ১৫ জন বাঙালি ও ১ জন অ-বাঙালি শ্রমিক। দুপুরের দিকে ইউপিডিএফ (মূল) দলের পোস্ট পরিচালক নিশান মারমার নেতৃত্বে ৩ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী আকস্মিকভাবে কাজের সাইটে হানা দেয়। তারা আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে কর্মরত শ্রমিকদের সম্পূর্ণ জিম্মি করে ফেলে এবং লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। সন্ত্রাসীদের নির্মম পিটুনিতে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।

আহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন—আনিছুর রহমান, খোকন হোসেন, সাদ্দাম হোসেন ও বেলাল হোসেনসহ মোট ১৬ জন। আক্রান্ত শ্রমিকদের সকলের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মারধরের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুড়াপাড়ার ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন রাস্তাটি নির্মাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিশাল বরাদ্দের একটি বড় অংশ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা চাঁদা হিসেবে দাবি করেছিল। ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধ না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিরীহ শ্রমিকদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালায় তারা।

ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে দ্রুত অ্যাকশনে নামে সিন্দুকছড়ি জোনের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল মুড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্তাক্ত ও আতঙ্কিত শ্রমিকদের উদ্ধার করে। আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই ঘটনার পর থেকে মুড়াপাড়া ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের দমনে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন।