রাঙামাটিতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও মারধরের মামলায় এক ব্যক্তিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
আসামী মো. আরমান হোছাইন (স্বামী),মামলার বাদী: মোসা. মিনুয়ারা আক্তার (স্ত্রী)। ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় আরমান ও মিনুয়ারার। এই দম্পতির ঘরে রয়েছে দুটি সন্তান। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় যৌতুকের জন্য নির্মম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
সংসার টিকিয়ে রাখার অন্ধ আশায় বাদিনী মিনুয়ারা বাবা বাড়ি থেকে বিভিন্ন দফায় এনে দেন প্রায় ৫ লাখ ৮ হাজার টাকা। কিন্তু এতেও লোভের ক্ষুধা মেটেনি স্বামীর। পরবর্তীতে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ১২ জুন মিনুয়ারা যখন শেষবারের মতো সংসার করার অনুরোধ নিয়ে যান, তখন তাকে বেদম মারধর করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি রক্ষা পান এবং পরবর্তীতে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এই রায় সমাজে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হয়ে থাকবে।




















