রামসু বাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের দোকানঘর নির্মাণ, শিক্ষা উপকরণ ও ফ্রি চিকিৎসা প্রদান ; অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি ওয়াদুদ ভূইয়া।
খাগড়াছড়ির গুইমারায় গত বছরের মর্মান্তিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তা, দোকানঘর নির্মাণ সামগ্রী, হুইলচেয়ার ও চিকিৎসাসেবা বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার সকালে গুইমারা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে এই মানবিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি বলেন, পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে না পারলে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্তদের দোকানঘর নির্মাণ সহায়তা, সোলার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, কারিগরি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার এবং দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর এই সময়ে গুইমারার রামসু বাজারে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতায় তিনজন পাহাড়ি নিহত এবং সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সংবাদকর্মীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
পাশাপাশি বিভিন্ন বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ক্ষত কাটিয়ে পাহাড়ে শান্তি ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
এ সময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত,সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নেহাত ফয়সল,লক্ষ্মীছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম,পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খানসহ অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।













