একের পর এক কঠিন ট্র্যাজেডি আর অদৃশ্য আঘাত ভেঙে দিয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের উত্তর দেবতাছড়ি এলাকার একটি অসহায় তনচংগ্যা পরিবারকে। পরিবারটির উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ইতিস তনচংগ্যা নিজে এখন গুরুতর অসুস্থ। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী সান্তনা তনচংগ্যা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় দিন কাটাচ্ছেন। এর আগে দীর্ঘ দিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ইতিসের বাবা অনিল তনচংগ্যা। সব মিলিয়ে দুই নিষ্পাপ শিশুকে নিয়ে এখন চরম অসহায়ত্ব ও মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইতিস তনচংগ্যার বাবা অনিল তনচংগ্যা দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহামিদা আলমের অধীনে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভিটেমাটি ও সহায়-সম্পত্তি সব বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারটিকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা যান তিনি।
বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন বিপর্যয় নেমে আসে পরিবারটিতে। পরিবারের একমাত্র ভরসা ইতিস তনচংগ্যা নিজে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর পাকস্থলীতে পানি জমার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে বড়ইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে ইতিসের স্ত্রী সান্তনা তনচংগ্যা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী। স্বামীর চিকিৎসা, নিজের ওষুধপত্র এবং দুই সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়া—এই ত্রিমুখী সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই দম্পতি। চিকিৎসালয় থেকে ওষুধ কেনার ন্যূনতম সামর্থ্যও আজ তাদের নেই।
একটি পরিবারের ওপর এমন একের পর এক বিপর্যয় সত্যি হৃদয়বিদারক। এই পরিস্থিতিতে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ ও অসুস্থ দম্পতির জীবন রক্ষার্থে সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের কাছে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
হযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:
বিকাশ নম্বর: ০১৮৮৯৯৬৩১৫৩
আপনার একটুখানি সহযোগিতা হতে পারে এই অসহায় পরিবারটির বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।












