খাগড়াছড়ির পানছড়িতে হঠাৎ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক ও শয্যা স্বল্পতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা, স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে তীব্র আতঙ্ক।
পাহাড়ের সীমান্তঘেঁষা জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়িতে নতুন করে থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গু। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তবে শয্যা ও চিকিৎসকের চরম সংকটে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে মারাত্মক হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে দেখা যায়, ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে এবং আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সাধ্যের তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে মাত্র ১০ শয্যার এই হাসপাতালে সৃষ্টি হয়েছে চরম সংকট।
চলতি মাসে হঠাৎ করেই জ্বর নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রক্ত পরীক্ষার পর অনেকেরই ডেঙ্গু পজিটিভ আসছে। কিন্তু আমাদের হাসপাতালটি মাত্র ১০ শয্যার। তার ওপর চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকট রয়েছে। শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সাধ্যের সবটুকু দিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
পাহাড় ও সীমান্তবেষ্টিত এ অঞ্চলে ইতিপূর্বে ডেঙ্গুর এমন বড় ধরনের বিস্তার না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা—দ্রুত হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্বে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ডা. অনুতোষ চাকমা বদলি হয়ে চলে গেছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে মিল্টন চাকমার যোগদানের কথা থাকলেও তিনি এখনো এসে পৌঁছাননি। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে হাসপাতালের ডা. রাখেশ ত্রিপুরা বর্তমান দায়িত্ব পালন করছেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার—যেমন ওরস্যালাইন, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করতে হবে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগী যেন সবসময় মশারি টাঙিয়ে নিরাপদে অবস্থান করেন, সেদিকেও বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
পাহাড়ের এই জনপদে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করার আগেই স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।












