খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে এক নজিরবিহীন ও হতাশাজনক বিপর্যয়। উপজেলার দুটি প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার তলানিতে ঠেকায় স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফলাফলের পরিসংখ্যান এক নজরে:
মহালছড়ি কলেজে ৫৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২৬ জন, মানবিক বিভাগে ৫৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯ জনসহ মোট ৯৩ জন পাস করেছেন। কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।
মাইসছড়ি কলেজে ২৪ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ২৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১ জন, আর ফেল করেছেন ২২ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৩৫ শতাংশ।
মহালছড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শামছুর রহমান ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানে অনীহাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আগামী দিনে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সচেতন মহলকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই শোচনীয় ফলাফল কেবল দুটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং পুরো উপজেলা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কলেজমুখী করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।












