খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির সাপমারায় আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির প্রস্তুতি সভাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপির চার কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সাপমারা নামক স্থানে অবস্থিত বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সন্ধ্যায় সাপমারা এলাকায় বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে ৭ নভেম্বরের প্রস্তুতি সভা চলছিল। এ সময় নেতাকর্মীরা মানিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই মো. আমির হোসেনকে (৪০) কার্যালয়ের পাশের একটি দোকানে দেখতে পেয়ে আটক করে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাপমারা গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং মো. আমির হোসেনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, দা ও লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করে বিএনপির চার নেতাকর্মীকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় ও দলীয় নেতাকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ৩ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অপর একজনকে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরিত আহতরা হলেন—
শফিকুল ইসলাম সুজন (৩০), পিতা- মৃত ওহিদ মিয়া, গ্রাম: তিনটহরী (মাথায় দায়ের কোপ),মো. শাহাদাত হোসেন (২০), পিতা- মো. জসিম উদ্দিন, গ্রাম: তিনটহরী (মাথার আঘাত), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৮), পিতা- মো. নুরুল ইসলাম, গ্রাম: তিনটহরী (মাথার আঘাত)।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন—
মো. ফারুক হোসেন (৩০), পিতা- মো. তৈয়ব আলী, গ্রাম: সাপমারা (শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাত)।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে সাপমারা ও এর আশেপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।















