আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী মিনা চাকমার পাশে দাঁড়িয়েছে মহালছড়ি জোন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ৩নং ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের করল্যাছড়ি মুখ এলাকায় মিনা চাকমার বাড়িতে জোনের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়। এ সময় তার পরিবারের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মিনার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহন এবং পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জোন কর্তৃপক্ষ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি জোনের প্রতিনিধি, ৩নং ক্যায়াংঘাট ইউপি চেয়ারম্যান রূপেন্ধু দেওয়ান, ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেমন্ত বিকাশ চাকমা এবং ২৪৯নং ক্যায়াংঘাট মৌজার কার্বারী নেহার বিন্দু তালুকদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার করল্যাছড়ি মুখ এলাকার বাসিন্দা নয়ন কিশর চাকমার মেয়ে মিনা চাকমা (ডাকনাম ঝিনা)। সে মাইসছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারে আর্থিক অসচ্ছলতা থাকায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ছিল সে। গত ২১ সেপ্টেম্বর বাবা-মায়ের মুখে পড়াশোনা বন্ধের আশঙ্কা শুনে অভিমান করে বাড়ি থেকে চলে যায় মিনা। পরে বিষয়টি জানতে পেরে জোন কর্তৃপক্ষ তার খোঁজখবর নেয় এবং তার শিক্ষা ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেয়।
নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে মিনা চাকমা বলে, আমি পড়াশোনা করতে চাই। আমার স্বপ্ন বড় হয়ে ডাক্তার হওয়া। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে বাবা-মায়ের কথা শুনে অভিমান করে চলে গিয়েছিলাম। মহালছড়ি জোন আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ায় আমি অনেক খুশি। এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছি এবং মন দিয়ে পড়াশোনা করব।
মিনার বাবা নয়ন কিশর চাকমা বলেন, আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। মহালছড়ি জোন আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে মেয়ের পড়াশোনা ও পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।
ইউপি চেয়ারম্যান রূপেন্ধু দেওয়ান বলেন, শুধু আর্থিক সংকটের কারণে একটি সম্ভাবনাময় শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হওয়া দুঃখজনক। মহালছড়ি জোনের এই মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এই সহায়তার ফলে মিনার মতো আর কোনো শিশুকে যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। মহালছড়ি জোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।















