পাহাড়ের উদীয়মান শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, দক্ষতা বিকাশ এবং জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে তাদের তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে জমকালো আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২) ২০২৬-২০২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের মাঝে নতুন আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন ‘কিন্নরী’তে এক ভার্চুয়াল সমাবেশের মাধ্যমে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি, প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এই ব্যাপকভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের সুস্বাস্থ্য ও ইতিবাচক মানসিকতা গঠনে খেলাধুলার বিকল্পহীন ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে মাদক, সামাজিক অপরাধ ও অবক্ষয়ের হাত থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শহরের পাশাপাশি দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের লুকানো প্রতিভাগুলোকে খুঁজে এনে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যেন তারা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের লাল-সবুজ পতাকাকে উঁচুতে তুলে ধরতে পারে।
প্রতিটি শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশকে রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা তরুণদের মাঝে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের সঞ্চার ঘটায়।
কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রায় অর্ধশতাধিক অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তনে ক্রীড়ামুখী এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বক্তারা পাহাড়ি এলাকার প্রতিভাবান সন্তানদের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের ওপর জোর দেন। তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর এই মঞ্চ ব্যবহার করে কাপ্তাইয়ের শিশু-কিশোররা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে।














