খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে সেনাবাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক ঝটিকা অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার সুপারি বাগান এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। আজ সকালে জব্দকৃত কাঠ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদ রক্ষায় আবারো নিজেদের তৎপরতার প্রমাণ দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা। দীঘিনালার সুপারি বাগান এলাকায় একটি ট্রাকে পাচারের উদ্দেশ্যে তোলা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ মূল্যবান কাঠ।
দীঘিনালা জোনের ফোর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিনের নির্দেশনায় এবং জোন অ্যাডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন আব্দুল্লা আল আজমির নেতৃত্বে সেনাবাহিনী সেখানে হানা দেয়। তবে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় পাচারকারী চক্রের সদস্যরা।
পরবর্তীতে ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় ১৩৮ টুকরা গোল কাঠ। যার মধ্যে রয়েছে সেগুন, গর্জন, গোদা, চাপালিশ, কড়ই ও গামারের মতো মূল্যবান প্রজাতির কাঠ।
বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিমাপ করে দেখা যায়, জব্দকৃত কাঠের পরিমাণ প্রায় ৪৯৮.০১ ঘনফুট, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
অভিযানকালে উপস্থিত বন বিভাগের উপ-রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোজিম উদ্দিন জানান, আজ (মঙ্গলবার) সকালে কাঠগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন বিভাগের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীঘিনালার দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে কাঠ পাচার করে আসছিল। সেনাবাহিনীর এই অভিযানের ফলে পাচারকারীদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং অবৈধ পাচার রোধে সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















