শিরোনামঃ
Logo ‎লংগদু স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo গুইমারায় সেনাসম্প্রীতি: সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন ৪৫০ রোগী Logo কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের ৮ দফা দাবি: রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান Logo মানিকছড়িতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে বিষপানে স্বামীর মৃত্যু ‎ Logo মানিকছড়িতে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন: ডিজিটাল লেনদেনে নতুন দিগন্ত Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
গৌতম বুদ্ধের ২৫৭০তম জন্মতিথিতে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ; বিশ্বশান্তি কামনায় ভিক্ষু ও দায়ক-দায়িকাদের প্রার্থনা।

রাঙামাটিতে মৈত্রী ও শান্তির বার্তা: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

পাহাড়ের অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা)। শুক্রবার (০১ মে ২০২৬) সকালে রাঙামাটি শহরে আয়োজিত বর্ণিল ও বিশাল ধর্মীয় শোভাযাত্রাটি পরিণত হয় শান্তি ও মানবতার এক মিলনমেলায়।

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা ও ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ উপলক্ষে আয়োজিত এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে এই মিছিলে অংশ নেন শত শত ভিক্ষু-শ্রমণ এবং বিপুল সংখ্যক উপাসক-উপাসিকা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী তরুণীদের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল পাহাড়ি পোশাক, যা পুরো আয়োজনকে এক অনন্য রূপ দান করে। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে শোভা পাচ্ছিল গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও বিশ্বশান্তির অমিয় বাণী।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য পরম পবিত্র। এই দিনটি ঘিরে অহিংসা, সহনশীলতা ও দয়া ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে শহরের বিহারগুলোতে সমবেত প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণের মাধ্যমে দিনটির মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান অশান্ত বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গৌতম বুদ্ধের জীবন দর্শন ও আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

শহর জুড়ে উৎসবমুখর এই পরিবেশ ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এই বর্ণাঢ্য উৎসব। পাহাড়ের সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে এই আয়োজন রাঙামাটির চিরচেনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‎লংগদু স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

গৌতম বুদ্ধের ২৫৭০তম জন্মতিথিতে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ; বিশ্বশান্তি কামনায় ভিক্ষু ও দায়ক-দায়িকাদের প্রার্থনা।

রাঙামাটিতে মৈত্রী ও শান্তির বার্তা: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

প্রকাশিত: ০৩:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

পাহাড়ের অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা)। শুক্রবার (০১ মে ২০২৬) সকালে রাঙামাটি শহরে আয়োজিত বর্ণিল ও বিশাল ধর্মীয় শোভাযাত্রাটি পরিণত হয় শান্তি ও মানবতার এক মিলনমেলায়।

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা ও ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ উপলক্ষে আয়োজিত এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে এই মিছিলে অংশ নেন শত শত ভিক্ষু-শ্রমণ এবং বিপুল সংখ্যক উপাসক-উপাসিকা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী তরুণীদের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল পাহাড়ি পোশাক, যা পুরো আয়োজনকে এক অনন্য রূপ দান করে। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে শোভা পাচ্ছিল গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও বিশ্বশান্তির অমিয় বাণী।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য পরম পবিত্র। এই দিনটি ঘিরে অহিংসা, সহনশীলতা ও দয়া ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে শহরের বিহারগুলোতে সমবেত প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণের মাধ্যমে দিনটির মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান অশান্ত বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গৌতম বুদ্ধের জীবন দর্শন ও আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

শহর জুড়ে উৎসবমুখর এই পরিবেশ ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এই বর্ণাঢ্য উৎসব। পাহাড়ের সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে এই আয়োজন রাঙামাটির চিরচেনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।