শিরোনামঃ
Logo টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান: গুলিবিনিময়ে সেনাসদস্য শহীদ, জিম্মি থেকে মুক্ত ৫৭ Logo মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: চিকিৎসা ও ওষুধ পেলেন দুর্গম এলাকার শতাধিক অ-বাঙালি পাহাড়ি Logo মহালছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর যাত্রা শুরু Logo কাপ্তাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’: ৫০৩ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধন Logo হারানো ৫০টির বেশি ফোন উদ্ধার করে মালিকদের হাসিমুখ ফিরিয়ে দিল রাঙ্গামাটি পুলিশ Logo কাপ্তাই চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন: প্রথম দিনেই ফরম নিলেন ১ প্রার্থী, চাঞ্চল্য ভোটারদের মাঝে Logo রামগড়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির রশিদসহ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক Logo কাপ্তাইয়ে চেকপোস্টে পুলিশের জালে ইয়াবাসহ আটক ১ Logo পানছড়িতে বৈধ ইজারাদারদের তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির শঙ্কা Logo কাপ্তাইয়ে ৫ পিস ইয়াবাসহ চাকমা যুবক আটক, মোটরসাইকেল জব্দ
পার্বত্য চট্টগ্রামে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় শেষ পর্যন্ত আমগাছের ডালে উঠে হাজিরা পাঠাতে হচ্ছে।

নেটওয়ার্ক পেতে গাছের মগঢালে উঠলেন প্রধান শিক্ষক, দুর্গম পাহাড়ে অনলাইন হাজিরার ভোগান্তি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন হাজিরা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় শেষ পর্যন্ত আমগাছের ডালে উঠে হাজিরা পাঠাতে হয়েছে তাকে।

ঘটনাটি ঘটেছে বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রমের প্রথম দিন সোমবার ১৫ জুন ২০২৬ সকালে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।

কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় বিপাকে পড়েন প্রধান শিক্ষক। দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচু এলাকায় হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাদেও পাওয়া যায়নি কোনো নেটওয়ার্ক।

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, প্রথমে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠেন। সেখানেও সফল না হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে মোবাইল সংযোগ পান। পরে গাছের ডালে বসেই হাজিরা খাতার ছবি তুলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।

তিনি বলেন,অনলাইন হাজিরা দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত গাছে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়েছি।
চাকরি করি পরিবারের দায়িত্ব পালনের জন্য। চাকরি ঠিক রাখতে হলে এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিতেই হয়।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের গাছে উঠে নেটওয়ার্ক খোঁজার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাস্তবতা বিবেচনা করে অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন,যেসব বিদ্যালয়ে ফোর-জি নেটওয়ার্ক আছে,সেখান থেকে অনলাইন হাজিরা এসেছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার শিক্ষকরা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন। আশা করছি, ধীরে ধীরে হাজিরার হার বাড়বে।দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে ডিজিটাল সেবার পথে থাকা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নে প্রত্যন্ত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান: গুলিবিনিময়ে সেনাসদস্য শহীদ, জিম্মি থেকে মুক্ত ৫৭

পার্বত্য চট্টগ্রামে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় শেষ পর্যন্ত আমগাছের ডালে উঠে হাজিরা পাঠাতে হচ্ছে।

নেটওয়ার্ক পেতে গাছের মগঢালে উঠলেন প্রধান শিক্ষক, দুর্গম পাহাড়ে অনলাইন হাজিরার ভোগান্তি

প্রকাশিত: ০১:০২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন হাজিরা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় শেষ পর্যন্ত আমগাছের ডালে উঠে হাজিরা পাঠাতে হয়েছে তাকে।

ঘটনাটি ঘটেছে বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রমের প্রথম দিন সোমবার ১৫ জুন ২০২৬ সকালে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।

কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় বিপাকে পড়েন প্রধান শিক্ষক। দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচু এলাকায় হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাদেও পাওয়া যায়নি কোনো নেটওয়ার্ক।

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, প্রথমে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠেন। সেখানেও সফল না হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে মোবাইল সংযোগ পান। পরে গাছের ডালে বসেই হাজিরা খাতার ছবি তুলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।

তিনি বলেন,অনলাইন হাজিরা দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত গাছে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়েছি।
চাকরি করি পরিবারের দায়িত্ব পালনের জন্য। চাকরি ঠিক রাখতে হলে এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিতেই হয়।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের গাছে উঠে নেটওয়ার্ক খোঁজার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাস্তবতা বিবেচনা করে অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন,যেসব বিদ্যালয়ে ফোর-জি নেটওয়ার্ক আছে,সেখান থেকে অনলাইন হাজিরা এসেছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার শিক্ষকরা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন। আশা করছি, ধীরে ধীরে হাজিরার হার বাড়বে।দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে ডিজিটাল সেবার পথে থাকা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নে প্রত্যন্ত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।