শিরোনামঃ
Logo ‎লংগদু স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo গুইমারায় সেনাসম্প্রীতি: সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন ৪৫০ রোগী Logo কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের ৮ দফা দাবি: রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান Logo মানিকছড়িতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে বিষপানে স্বামীর মৃত্যু ‎ Logo মানিকছড়িতে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন: ডিজিটাল লেনদেনে নতুন দিগন্ত Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ঝরে পড়া রোধের ৪০ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি কোথায় ১৮০ দিনের অর্জন নাকি শুধুই কাগজের খেলা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক পারিষদবর্গের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অন্ত নেই। তবে এবার কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে থলের বেড়াল। সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও দুর্গম অঞ্চলে ঝরে পড়া রোধের ৪০ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি বিতরণে এক রহস্যজনক লুকোচুরি ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার আলোকে গত ৬ আগস্ট খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক অগ্রগতি প্রতিবেদনে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়— ‘শিক্ষা ও মানব উন্নয়ন’ কর্মসূচির আওতায় ৩৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৪০ লক্ষ টাকার শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে গত ১৬ আগস্ট বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার সময়সীমা পার হয়ে গেলেও পাহাড়ি অঞ্চলের দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির এক টাকাও হাতে পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৮০ লক্ষ টাকা। অথচ বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে অর্ধেক লক্ষ্যমাত্রা অর্থাৎ ৫০% অর্জন দেখানো হলেও, কাগজে-কলমে দেখানো সেই ৩৮০ জনের ৪০ লাখ টাকা আদতে কাদের পকেটে গেছে— তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। বিদায়ী পারিষদবর্গের বিদায়ঘণ্টা বাজার আগে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা তসরূপ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে খাগড়াছড়ির সচেতন মহলে তীব্র সংশয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এটি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং সরকারের মহতি উদ্যোগ ও নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এক গভীর চক্রান্ত। সদ্য নিযুক্ত নতুন পরিষদের প্রতি খাগড়াছড়ির ছাত্রসমাজ ওবাসীর জোরালো দাবি, অবিলম্বে এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং আটকে থাকা ও তসরূপ হওয়া অর্থ উদ্ধার করে প্রকৃত ৬৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮০ লক্ষ টাকার শিক্ষাবৃত্তি দ্রুত বিতরণ করা হোক।

এদিকে সম্প্রতি রাঙামাটি সফরে এসে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের দুর্নীতির বিচার ও তদন্ত হবে।প্রতিমন্ত্রীর এমন কড়া হুশিয়ারির পর তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ মানুষ এখন এই বক্তব্যের দ্রুত ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‎লংগদু স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

ঝরে পড়া রোধের ৪০ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি কোথায় ১৮০ দিনের অর্জন নাকি শুধুই কাগজের খেলা

প্রকাশিত: ০৩:৩০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক পারিষদবর্গের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অন্ত নেই। তবে এবার কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে থলের বেড়াল। সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও দুর্গম অঞ্চলে ঝরে পড়া রোধের ৪০ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি বিতরণে এক রহস্যজনক লুকোচুরি ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার আলোকে গত ৬ আগস্ট খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক অগ্রগতি প্রতিবেদনে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়— ‘শিক্ষা ও মানব উন্নয়ন’ কর্মসূচির আওতায় ৩৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৪০ লক্ষ টাকার শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে গত ১৬ আগস্ট বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার সময়সীমা পার হয়ে গেলেও পাহাড়ি অঞ্চলের দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির এক টাকাও হাতে পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৮০ লক্ষ টাকা। অথচ বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে অর্ধেক লক্ষ্যমাত্রা অর্থাৎ ৫০% অর্জন দেখানো হলেও, কাগজে-কলমে দেখানো সেই ৩৮০ জনের ৪০ লাখ টাকা আদতে কাদের পকেটে গেছে— তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। বিদায়ী পারিষদবর্গের বিদায়ঘণ্টা বাজার আগে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা তসরূপ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে খাগড়াছড়ির সচেতন মহলে তীব্র সংশয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এটি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং সরকারের মহতি উদ্যোগ ও নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এক গভীর চক্রান্ত। সদ্য নিযুক্ত নতুন পরিষদের প্রতি খাগড়াছড়ির ছাত্রসমাজ ওবাসীর জোরালো দাবি, অবিলম্বে এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং আটকে থাকা ও তসরূপ হওয়া অর্থ উদ্ধার করে প্রকৃত ৬৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮০ লক্ষ টাকার শিক্ষাবৃত্তি দ্রুত বিতরণ করা হোক।

এদিকে সম্প্রতি রাঙামাটি সফরে এসে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের দুর্নীতির বিচার ও তদন্ত হবে।প্রতিমন্ত্রীর এমন কড়া হুশিয়ারির পর তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ মানুষ এখন এই বক্তব্যের দ্রুত ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।