জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের (UNPFII) ২৫তম অধিবেশনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বক্তব্য প্রদানের প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক সংগঠনগুলো। আজ শুক্রবার (১ মে ২০২৬) বান্দরবানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ এই তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বক্তারা অভিযোগ করেন, জেএসএস-এর প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত।
সম্প্রতি জাতিসংঘের ২৫তম অধিবেশনে আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর প্রতিনিধি অগাস্টিনা চাকমা ও চঞ্চনা চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই বক্তব্য ছিল চরম বিভ্রান্তিমূলক, একপাক্ষিক এবং সত্যের অপলাপ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। এর বিরোধিতা করা মানে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা।
অবৈধ অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান বন্ধের দাবির তীব্র সমালোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম অপরিহার্য।
পাহাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যকে আড়াল করে বিশ্বদরবারে একটি অন্ধকার চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সভাপতি থোয়াইচিং মং চাক বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার নয়। পাহাড়ের উন্নয়ন ও শান্তি বিনষ্ট করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আমরা আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন কোনো একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে মূল্যায়ন না করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য থং পং ম্রো, বান্দরবান জেলা কমিটির অংসিংথোয়াই মারমা, উ থোয়াই মে মারমা, এলেক্স বড়ুয়া এবং পাইমংথুই মারমা প্রেমসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



