খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়িতে এক কিশোরী স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে হাত-পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই বখাটের বিরুদ্ধে। গত ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ দুপুরে কোচিং ক্লাসে যাওয়ার পথে তিনটহরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর মেয়ে আয়শা আক্তার (ছদ্ন নাম) বৃত্তি পরীক্ষার বিশেষ ক্লাসে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের রাস্তায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ১নং আসামী রবিন হোসেন এবং তার সহযোগী ২নং আসামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা নিয়ে কিশোরীর পথরোধ করে। তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে বিভিন্ন নির্জন স্থানে ঘুরে শ্লীলতাহানি করে এবং সর্বশেষ রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তিনটহরী মধ্যম পাড়া এলাকার চিতাখোলার পাশের জঙ্গলে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
ভুক্তভোগীর মা দীর্ঘ সময় মেয়ে বাড়ি না ফেরায় তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত রবিন হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে সে নানা তালবাহানা শুরু করে। পরে পুলিশের ভয় দেখালে রবিন স্বীকার করে যে মেয়ে তার হেফাজতে আছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মধ্যম পাড়া মসজিদের সামনে থেকে আহত অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে পরিবার।
নির্যাতনের শিকার কিশোরীর ঠোঁটে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা কেবল ধর্ষণই করেনি, বরং তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে ও মুখ চেপে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিম্মি করে রাখে।
এই ঘটনায় মানিকছড়ি থানায় রবিন হোসেন ও তার সিএনজি চালক সহযোগীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এবং স্বজনরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন অভিযুক্ত প্রধান আশামীকে আটক করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রকৃিয়াধীন রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















