পাহাড়ের ৪০০ ফুট নিচে ঝিরি থেকে পানি এনে তৃষ্ণা মেটাতেন রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম কুক্যাছড়ি পাড়ার খিয়াং সম্প্রদায়ের মানুষ। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলমান এই চরম পানিসংকট ও দুর্ভোগের অবশেষে অবসান হতে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের এক তাৎক্ষণিক ও যুগান্তকারী উদ্যোগে দুর্গম এই পাহাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনির মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম কুক্যাছড়ি পাড়ার খিয়াং সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০টি পরিবার যুগ যুগ ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছিলেন। প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে পাহাড়ের প্রায় ৪০০ ফুট নিচের ঝিরি থেকে তাদের কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করতে হতো। দুর্গম ও পিচ্ছিল পাহাড়ি পথে পানি আনতে গিয়ে অনেক সময় পাহাড়ি নারীরা মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছেন।
অনগ্রসর এই জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের মানবিক দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনি নিজ উদ্যোগে বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালকে বিস্তারিত অবগত করেন। বিষয়টি জানার পর প্রতিমন্ত্রী কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৭ জুন) রাঙামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম এবং জেলা পরিষদ সদস্য প্রতুল দেওয়ানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়া পরিদর্শন করেন। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন এবং পানি সরবরাহের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, “মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল মহাশয় বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই এই মানবিক সংকট দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এখানে ঝিরি থেকে আধুনিক সোলার পাম্পের মাধ্যমে পানি উপরে তুলে আনার ব্যবস্থা করছি। এতে এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার সরাসরি সুপেয় পানির সুবিধা পাবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।
এদিকে চার দশক ধরে চলে আসা এই তীব্র পানিসংকট থেকে মুক্তির আলো দেখতে পেয়ে খিয়াং সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তারা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনি এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের জন্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই পানির প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী যেন নিজে উপস্থিত থেকে প্রত্যন্ত খিয়াং পাড়ার এই পানি সরবরাহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।















