শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ের কৃতি সন্তান সাদমানের জিপিএ-৫ অর্জন: বুয়েটে পড়ে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন ‎ Logo রাঙামাটিতে ইউএনডিপি ও জেলা পরিষদের যৌথ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo ‎‘ম্যাডাম’ না ডাকলে মেলে না চিকিৎসা! গুইমারা ইসলামিক মিশন কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে উত্তাল এলাকাবাসী Logo কাপ্তাইয়ে ট্রাকের ধাক্কায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন শিলছড়ি বালুচর; মেরামতে চলছে ক্ষতিপূরণের দেনদরবার Logo ভয়াবহ আগুনে পুড়ল রাঙ্গামাটির কসমস রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেল ‎ Logo মানিকছড়িতে বাজার শেড অবৈধ দখলমুক্ত ও পুনঃস্থাপনের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন Logo মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন পুড়ে ছাই: অসহায় সুমের আলীর পাশে মহালছড়ি সেনা জোন ‎ Logo জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাওয়া জনজীবন: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রধানের জোর Logo লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ: ৩ দিনের মধ্যে অ্যাকশনের আল্টিমেটাম ‎ Logo রাঙামাটিতে বিশেষ অভিযান: ২০ লিটার চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার ৭

দুর্গম পাহাড়ে মা-শিশুর জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ

বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গর্ভবতী ও নবজাতকের পরিচর্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সমরে ও শান্তিতে রাখিব সুস্থ—এই মহান ব্রত সামনে রেখে বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ভৌগোলিক দূরত্ব আর যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলের গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের জীবন রক্ষার্থে পরিচালিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘটেছে।

‎আজ বৃহস্পতিবার সকালে ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের পরিচালনায় আয়োজিত হয় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান। ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি ও বিপদচিহ্ন শনাক্তকরণ, প্রসবকালীন প্রাথমিক সহায়তা, নবজাতকের পরিচর্যা, বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান, জীবন রক্ষাকারী সিপিআর, ক্যানুলা প্রয়োগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিবিড় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। এ সময় বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী এবং ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজসহ অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ের ভৌগোলিক বাস্তবতায় প্রায় সময়ই জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তবে এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরি হওয়ায় প্রসবকালীন জটিলতা কিংবা নবজাতকের জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো অনেক সহজ হবে। সঠিক সময়ে বিপদচিহ্ন শনাক্ত করে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান এবং রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

‎সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ পাহাড়ি অঞ্চলের মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও গতিশীল করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্গম জনপদের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন কল্যাণমুখী কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সাধারণ মানুষের।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ের কৃতি সন্তান সাদমানের জিপিএ-৫ অর্জন: বুয়েটে পড়ে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন ‎

দুর্গম পাহাড়ে মা-শিশুর জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ

প্রকাশিত: ০১:৫১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গর্ভবতী ও নবজাতকের পরিচর্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সমরে ও শান্তিতে রাখিব সুস্থ—এই মহান ব্রত সামনে রেখে বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ভৌগোলিক দূরত্ব আর যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলের গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের জীবন রক্ষার্থে পরিচালিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘটেছে।

‎আজ বৃহস্পতিবার সকালে ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের পরিচালনায় আয়োজিত হয় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান। ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি ও বিপদচিহ্ন শনাক্তকরণ, প্রসবকালীন প্রাথমিক সহায়তা, নবজাতকের পরিচর্যা, বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান, জীবন রক্ষাকারী সিপিআর, ক্যানুলা প্রয়োগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিবিড় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। এ সময় বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী এবং ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজসহ অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ের ভৌগোলিক বাস্তবতায় প্রায় সময়ই জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তবে এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরি হওয়ায় প্রসবকালীন জটিলতা কিংবা নবজাতকের জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো অনেক সহজ হবে। সঠিক সময়ে বিপদচিহ্ন শনাক্ত করে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান এবং রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

‎সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ পাহাড়ি অঞ্চলের মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও গতিশীল করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্গম জনপদের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন কল্যাণমুখী কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সাধারণ মানুষের।