শিরোনামঃ
Logo রাঙামাটিতে কোতয়ালী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৭ Logo রাজপথের পরীক্ষিত লড়াই থেকে ভোটের ময়দানে: ভিপি শাহীনের জন্মদিনে নেতাকর্মীদের উল্লাস Logo খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বিএনপির প্রস্তুতি সভায় হামলা: আহত ৪, চমেক হাসপাতালে প্রেরিত ৩ Logo টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান: গুলিবিনিময়ে সেনাসদস্য শহীদ, জিম্মি থেকে মুক্ত ৫৭ Logo মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: চিকিৎসা ও ওষুধ পেলেন দুর্গম এলাকার শতাধিক অ-বাঙালি পাহাড়ি Logo মহালছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর যাত্রা শুরু Logo কাপ্তাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’: ৫০৩ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধন Logo হারানো ৫০টির বেশি ফোন উদ্ধার করে মালিকদের হাসিমুখ ফিরিয়ে দিল রাঙ্গামাটি পুলিশ Logo কাপ্তাই চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন: প্রথম দিনেই ফরম নিলেন ১ প্রার্থী, চাঞ্চল্য ভোটারদের মাঝে Logo রামগড়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির রশিদসহ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক
জন্মসনদ উপেক্ষা করে বয়স বৃদ্ধি, হাতকড়া পরিয়ে গাজীপুর টঙ্গী শিশু সংশোধনাগারে প্রেরণ; ওসির বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ পরিবারের।

চুরির মামলায় ১৫ বছরের শিশুর কান্না: রামগড়ে আইনি মারপ্যাঁচে ‘ধূলিসাৎ’ শৈশব, নেপথ্যে কি তবে পুলিশের প্রতিহিংসা

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় একটি মোবাইল চুরির মামলাকে কেন্দ্র করে ১৫ বছরের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনি মহলে তীব্র ক্ষোভ ও মানবিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিশুটির পরিবারের দাবি, প্রকৃত অপরাধ আড়াল করে এক চরম অবিচারের শিকার হয়েছে তাদের সন্তান। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অবিলম্বে শিশুটির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

শিশুটির বাবা মো. হানিফ কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ছেলে কখনো কোনো অপরাধ বা চুরির সাথে জড়িত ছিল না। ঘটনার দিন মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ফুসলিয়ে বলে, মোবাইলটি তার খালার এবং সেটি বিক্রি করতে হবে। সরল বিশ্বাসে শিশুটি তার সাথে দোকানে যায়। কিন্তু ফোনটি যে চুরি করা ছিল, তা সে জানত না। অথচ এই অজান্তেই একটি ভুল পদক্ষেপে জড়িয়ে যাওয়ায় তাকে মোবাইল চুরির মূল মামলায় আসামী করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম শিশুটির কোনো বক্তব্য বা আকুতি আমলে নেননি। উল্টো পেনাল কোডের ৩৮০, ৪১১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় তাকে আসামী করা হয়।
সবচেয়ে বড় অসংগতি দেখা গেছে শিশুটির বয়স নিয়ে। জন্মসনদ অনুযায়ী শিশুটির বয়স মাত্র ১৫ বছর হলেও, মামলায় ওসির নির্দেশে তার বয়স ১৬ বছর দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও শিশু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে হাতকড়া পরিয়ে খাগড়াছড়ি আদালতে তোলা হয়। খাগড়াছড়িতে কোনো শিশু হাজত বা সংশোধনাগার না থাকায়, বর্তমানে তাকে সুদূর গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (শিশু হাজতখানা) পাঠানো হয়েছে।

শিশুটির পরিবার এই সাজার পেছনে এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে। আটক অভিযানের সময় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের পরিচয় জানতে চাওয়ায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিক বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং প্রতিহিংসাবশত ওসি মো. নাজির আলম শিশুটিকে এই মামলায় জড়িয়েছেন।

শিশু আইন অনুযায়ী, কোনো শিশুকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে গেলে স্থানীয় সমাজসেবা অফিসারকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ওসি তা করেননি। এমনকি দীর্ঘদিন শিশুটিকে থানায় আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোবাইল চুরির কথা শিশুটি স্বীকার করেছে, যার ভিত্তিতে তাকে মামলায় আসামী করা হয়েছে। তবে ওসির এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর মতে, শিশু সংশ্লিষ্ট মামলায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় যে বিশেষ সতর্কতা এবং সংবেদনশীলতা অবলম্বন করার কথা, তা এখানে পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ভবিষ্যৎ ও মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করে পুরো বিষয়টির দ্রুত একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং শিশুটির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙামাটিতে কোতয়ালী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৭

জন্মসনদ উপেক্ষা করে বয়স বৃদ্ধি, হাতকড়া পরিয়ে গাজীপুর টঙ্গী শিশু সংশোধনাগারে প্রেরণ; ওসির বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ পরিবারের।

চুরির মামলায় ১৫ বছরের শিশুর কান্না: রামগড়ে আইনি মারপ্যাঁচে ‘ধূলিসাৎ’ শৈশব, নেপথ্যে কি তবে পুলিশের প্রতিহিংসা

প্রকাশিত: ০৪:১৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় একটি মোবাইল চুরির মামলাকে কেন্দ্র করে ১৫ বছরের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনি মহলে তীব্র ক্ষোভ ও মানবিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিশুটির পরিবারের দাবি, প্রকৃত অপরাধ আড়াল করে এক চরম অবিচারের শিকার হয়েছে তাদের সন্তান। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অবিলম্বে শিশুটির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

শিশুটির বাবা মো. হানিফ কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ছেলে কখনো কোনো অপরাধ বা চুরির সাথে জড়িত ছিল না। ঘটনার দিন মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ফুসলিয়ে বলে, মোবাইলটি তার খালার এবং সেটি বিক্রি করতে হবে। সরল বিশ্বাসে শিশুটি তার সাথে দোকানে যায়। কিন্তু ফোনটি যে চুরি করা ছিল, তা সে জানত না। অথচ এই অজান্তেই একটি ভুল পদক্ষেপে জড়িয়ে যাওয়ায় তাকে মোবাইল চুরির মূল মামলায় আসামী করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম শিশুটির কোনো বক্তব্য বা আকুতি আমলে নেননি। উল্টো পেনাল কোডের ৩৮০, ৪১১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় তাকে আসামী করা হয়।
সবচেয়ে বড় অসংগতি দেখা গেছে শিশুটির বয়স নিয়ে। জন্মসনদ অনুযায়ী শিশুটির বয়স মাত্র ১৫ বছর হলেও, মামলায় ওসির নির্দেশে তার বয়স ১৬ বছর দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও শিশু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে হাতকড়া পরিয়ে খাগড়াছড়ি আদালতে তোলা হয়। খাগড়াছড়িতে কোনো শিশু হাজত বা সংশোধনাগার না থাকায়, বর্তমানে তাকে সুদূর গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (শিশু হাজতখানা) পাঠানো হয়েছে।

শিশুটির পরিবার এই সাজার পেছনে এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে। আটক অভিযানের সময় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের পরিচয় জানতে চাওয়ায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিক বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং প্রতিহিংসাবশত ওসি মো. নাজির আলম শিশুটিকে এই মামলায় জড়িয়েছেন।

শিশু আইন অনুযায়ী, কোনো শিশুকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে গেলে স্থানীয় সমাজসেবা অফিসারকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ওসি তা করেননি। এমনকি দীর্ঘদিন শিশুটিকে থানায় আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোবাইল চুরির কথা শিশুটি স্বীকার করেছে, যার ভিত্তিতে তাকে মামলায় আসামী করা হয়েছে। তবে ওসির এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর মতে, শিশু সংশ্লিষ্ট মামলায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় যে বিশেষ সতর্কতা এবং সংবেদনশীলতা অবলম্বন করার কথা, তা এখানে পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ভবিষ্যৎ ও মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করে পুরো বিষয়টির দ্রুত একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং শিশুটির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।