খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় একটি মোবাইল চুরির মামলাকে কেন্দ্র করে ১৫ বছরের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনি মহলে তীব্র ক্ষোভ ও মানবিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিশুটির পরিবারের দাবি, প্রকৃত অপরাধ আড়াল করে এক চরম অবিচারের শিকার হয়েছে তাদের সন্তান। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অবিলম্বে শিশুটির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
শিশুটির বাবা মো. হানিফ কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ছেলে কখনো কোনো অপরাধ বা চুরির সাথে জড়িত ছিল না। ঘটনার দিন মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ফুসলিয়ে বলে, মোবাইলটি তার খালার এবং সেটি বিক্রি করতে হবে। সরল বিশ্বাসে শিশুটি তার সাথে দোকানে যায়। কিন্তু ফোনটি যে চুরি করা ছিল, তা সে জানত না। অথচ এই অজান্তেই একটি ভুল পদক্ষেপে জড়িয়ে যাওয়ায় তাকে মোবাইল চুরির মূল মামলায় আসামী করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম শিশুটির কোনো বক্তব্য বা আকুতি আমলে নেননি। উল্টো পেনাল কোডের ৩৮০, ৪১১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় তাকে আসামী করা হয়।
সবচেয়ে বড় অসংগতি দেখা গেছে শিশুটির বয়স নিয়ে। জন্মসনদ অনুযায়ী শিশুটির বয়স মাত্র ১৫ বছর হলেও, মামলায় ওসির নির্দেশে তার বয়স ১৬ বছর দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও শিশু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে হাতকড়া পরিয়ে খাগড়াছড়ি আদালতে তোলা হয়। খাগড়াছড়িতে কোনো শিশু হাজত বা সংশোধনাগার না থাকায়, বর্তমানে তাকে সুদূর গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (শিশু হাজতখানা) পাঠানো হয়েছে।
শিশুটির পরিবার এই সাজার পেছনে এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে। আটক অভিযানের সময় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের পরিচয় জানতে চাওয়ায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিক বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং প্রতিহিংসাবশত ওসি মো. নাজির আলম শিশুটিকে এই মামলায় জড়িয়েছেন।
শিশু আইন অনুযায়ী, কোনো শিশুকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে গেলে স্থানীয় সমাজসেবা অফিসারকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ওসি তা করেননি। এমনকি দীর্ঘদিন শিশুটিকে থানায় আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোবাইল চুরির কথা শিশুটি স্বীকার করেছে, যার ভিত্তিতে তাকে মামলায় আসামী করা হয়েছে। তবে ওসির এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর মতে, শিশু সংশ্লিষ্ট মামলায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় যে বিশেষ সতর্কতা এবং সংবেদনশীলতা অবলম্বন করার কথা, তা এখানে পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ভবিষ্যৎ ও মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করে পুরো বিষয়টির দ্রুত একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং শিশুটির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।



















