পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতি আর বেপরোয়া যানচালনার বলি হলো আরও একটি নিষ্পাপ প্রাণ। রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় মাহিন্দ্রা পিকআপ ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে রিফাত নামে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ইসলামবাদ এলাকার নাজিম টিলা নামক স্থানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বাইট্টাপাড়া থেকে দীঘিনালাগামী একটি মাহিন্দ্রা পিকআপের সাথে বিপরীত দিক (সোনাই ৫ নম্বর এলাকা) থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নাজিম টিলা এলাকার একটি বিপজ্জনক বাঁক ঘোরার সময় অতিরিক্ত গতিতে থাকা অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি মাহিন্দ্রার সামনে চলে আসে। সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তবে মাহিন্দ্রায় থাকা যাত্রীরা অক্ষত ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রাবেতা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া শিশু রিফাত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বর্তমানে আহতদের মধ্যে চারজন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে এবং একজন রাবেতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি যানবাহনই জব্দের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জকোরিয়া, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), লংগদু থানা।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পাহাড়ি সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও গণপরিবহনের বৈধতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলাল উদ্দিন। তিনি বলেন: অ-নিবন্ধিত যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের কারণেই প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং তুলে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এই দায়ের বড় অংশ আইন প্রয়োগ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের ওপরও বর্তায়। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
মাত্র দুই বছরের শিশু রিফাতের এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো লংগদু এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড়ি সড়কে নিয়মিত নজরদারির অভাব এবং চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে প্রায়ই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা অতি দ্রুত সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ফিটনেসবিহীন অবৈধ যানবাহন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।


















