মানবিক ত্রাণ কার্যের চাল গায়েব করে দিয়ে নামমাত্র নগদ টাকা ধরিয়ে দেওয়ার এক অভিনব দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত ২৭ মেট্রিক টন চালের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা! যেখানে বর্তমান বাজারে এক টন চালের মূল্য কয়েক হাজার টাকা বেশি, সেখানে এই বিপুল অঙ্কের টাকা কোথায় গেলো—তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। তবে বরাবরের মতোই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সরকারি-বেসরকারি এতিমখানা ও সামাজিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠানের মানবিক সহায়তার জন্য খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক গত ১৫ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে চাল উপ-বরাদ্দ দেন। এর মধ্যে রামগড় উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির নামে ১ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
আইন অনুযায়ী, পিআইও অফিস থেকে বরাদ্দপত্র নিয়ে খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করার কথা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ১২টি মসজিদ ও নূরানী মাদ্রাসাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৯ হাজার টাকা এবং ১০টি মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারের দায়িত্বশীলদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ হাজার টাকা। এছাড়া একটি মাদ্রাসাকে দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি: অফিসে ডেকে টাকা দেওয়া হয়েছে প্রতারণার শিকার একাধিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সরাসরি এই অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন: মো: জসিম উদ্দিন (সভাপতি, তালিমুল কুরআন নূরাণী মাদ্রাসা) আমার মাদ্রাসার নামে এক মে.টন চাল বরাদ্দ হলেও পিআইও অফিসের এক শিক্ষককে ডেকে নিয়ে চালের বদলে মাত্র ৯ হাজার টাকা দিয়েছেন। একই সুর শোনা গেছে বালুখালি বাহারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার সভাপতি ওসমান গণি,বলিটিলা তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক এবং সোনাইআগা কালী মন্দিরের সভাপতি ধনঞ্জয় ত্রিপুরার কণ্ঠেও। তাদের প্রশ্ন, এক টন চালের দাম কি মাত্র ৭ বা ৯ হাজার টাকা বাকি টাকা কার পকেটে গেলো।
বরাদ্দ এবং বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান।এএসএম করিম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), রামগড় অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি বলেন, যার নামে বরাদ্দপত্র ইস্যু করা হয়, সে ব্যতিত অন্য কারও পক্ষে খাদ্য গুদাম থেকে চাল বা গম উত্তোলন করা সম্ভব নয়।
মো. ইকবাল হোসেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, রামগড় খাদ্য গুদাম তিনি পিআইও-র সুরেই বলেন, বরাদ্দপত্র যার নামে ইস্যু হয়, শুধুমাত্র তিনিই গুদাম থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী চাল পেয়ে থাকেন। কাজী শামীম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রামগড় তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে বলেন, মৌখিকভাবে এই অভিযোগ পেয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ, ধর্মীয় ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণে এমন প্রকাশ্য লুটপাটের অভিযোগে রামগড়ের সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পিআইও এবং খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এমন অনিয়ম অসম্ভব। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই চাল চুরির সিন্ডিকেট উন্মোচন করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন রামগড়বাসী।


















